দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের ভারে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) চাপে রয়েছে। এ বকেয়া পৌরসভার আমল থেকে শুরু হয়ে দুই যুগ পার হলেও পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারেনি বিসিসি। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) কাছে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ৬৪ কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল বকেয়া।
বকেয়া আদায়ে বারবার তাগাদা দিয়েও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় অতীতে কয়েক দফায় সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপও নিয়েছিল ওজোপাডিকো। তবে সাম্প্রতিককালে নতুন করে আর কোনো বকেয়া তৈরি হচ্ছে না বলে দাবি করেছে বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, ২০২৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে মাসভিত্তিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা হচ্ছে। অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে গতি আসে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে মোট ৯৭ লাখ ৮ হাজার ৮০৪ টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেছে বিসিসি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বরিশাল নগরীর সড়কবাতি, পানি উত্তোলন ও বিভিন্ন নাগরিক সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়। ফলে প্রতি মাসেই বড় অঙ্কের বিল তৈরি হচ্ছে। কিন্তু পুরনো বকেয়া পরিশোধে টাকার অভাবে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা যায়, ১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে বরিশাল প্রথম পৌরসভায় উন্নীত হয়। ২০০২ সালে বরিশাল সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করা হয়। বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী অহিদ মুরাদ বলেন, যে বকেয়া বিলের কথা বলা হচ্ছে, তা মূলত পৌরসভা আমল থেকে শুরু করে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়ের। বর্তমানে নতুন করে কোনো বকেয়া হচ্ছে না। ২০২৩ সাল থেকে আমরা নিয়মিত মাসভিত্তিক বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে আসছি। প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পরও বিল পরিশোধ অব্যাহত রয়েছে।
বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের ব্যাপারে বিসিসির প্রশাসক শিরীন বলেন, আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে চলতি বিল নিয়মিত পরিশোধের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি। পুরনো বকেয়া অনেক বছরের। সেটি একসঙ্গে পরিশোধ সম্ভব নয়। তবে ধাপে ধাপে বকেয়া সমন্বয়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নাগরিক সেবা যাতে ব্যাহত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।