সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬ ১৯:৪৩ পিএম
আপডেট : ২২ মে ২০২৬ ২০:১১ পিএম
সুন্দরবনে পৃথক দুই অভিযানে বনদস্যু দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কবল থেকে ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সুন্দরবনে পৃথক দুই অভিযানে বনদস্যু দয়াল বাহিনী ও বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর কবল থেকে ২১ জেলেকে উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় দস্যুদের আস্তানা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন শুক্রবার সকালে এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় সকল বনদস্যুর বিরুদ্ধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত করা হচ্ছে। এসব অভিযানের ধারাবাহিকতায় সপ্তম বারের মতো পরিচালিত পৃথক দুই অভিযানে জিম্মি থাকা ২১ জেলেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড জানায়, খুলনার কয়রা ও সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার জেলেরা মাছ ও কাঁকড়া ধরতে সুন্দরবনে গেলে দয়াল বাহিনীর সদস্যরা তাদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করে। জেলেদের ফিরিঙ্গি খাল ও কুনচির খাল–সংলগ্ন এলাকা থেকে ধরে নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কোস্টগার্ড জানতে পারে, জিম্মি জেলেদের নিয়ে দয়াল বাহিনীর সদস্যরা কয়রা উপজেলার আওতাধীন সুন্দরবনের আন্দারমানিক এলাকার টোটা ও কেওড়াতলা খাল–সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে কোস্টগার্ড কয়রা স্টেশনের সদস্যরা সেখানে অভিযান চালান।
কোস্টগার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে দস্যুরা বনের ভেতরে পালিয়ে যায়। পরে ওই এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে দয়াল বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ১০ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
একই দিন বিকেলে সুন্দরবনের শিবসা নদীর বড় দুদমুখ খাল–সংলগ্ন এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযান চালানো হয়। কোস্টগার্ড ও র্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ওই এলাকায় বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছে।
অভিযান চলাকালে দস্যুরা কোস্টগার্ডকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে কোস্টগার্ডও পাল্টা গুলি চালালে দস্যুরা বনের গভীরে পালিয়ে যায়। পরে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে একটি একনলা বন্দুক, পাঁচটি তাজা কার্তুজ ও একটি ফাঁকা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা আরও ১১ জেলেকে উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন কোস্ট গার্ড।