মাদারীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬ ১৯:৩৪ পিএম
রাশিয়ার সেনাবাহিনীর হয়ে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়েছিলেন মাদারীপুরের যুবক মো. সুরুজ কাজী (৩৫)। গত সোমবার প্রতিপক্ষের হামলায় নিহত হয়েছেন তিনি। তবে বৃহস্পতিবার (২১ মে) সন্ধ্যায় সুরুজের পরিবার তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
নিহত সুরুজ মাদারীপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ খাগড়াছড়া এলাকার শাহাবুদ্দিন কাজীর ছেলে। এদিকে, সুরুজ মৃত্যুর খবরে শোকে স্তব্ধ স্বজনরা, পাগলপ্রায় স্ত্রী।
নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, উন্নত জীবনের আশায় বাংলাদেশি এক দালালের মাধ্যমে ইউরোপ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুরুজ। দালালের পরামর্শে ৮ মাস আগে তিনি রাশিয়া যান। সেখানেও তিনি আরেক দালালের খপ্পরে পড়ে যোগ দেন দেশটির সেনাবাহিনীতে। সম্প্রতি ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে গিয়ে ড্রোন হামলায় নিহত হন সুরুজ। প্রথমে তার মৃত্যুর বিষয়টি গোপন রাখা হলেও রাশিয়ায় অবস্থানরত দুই প্রবাসী বাংলাদেশি সুরুজের মৃত্যুর বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়।
সুরুজের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তার বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকাবাসীর ভিড় করতে থাকেন। পরিবারের সদস্যরা বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। বিশেষ করে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আহাজারিতে বাড়ির চারিপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে সুরুজ বড়।
বড় ছেলেকে হারিয়ে অনেকটাই বাকরুদ্ধ বাবা শাহাবুদ্দিন কাজী। তিনি বলেন, আমার বড় ছেলে আর নাই। বিদেশ গেল ভালো থাকার জন্য, এখন সব শেষ হয়ে গেল। শেষ বারের মতো ছেলের মুখটা একবার দেখতে চাই। সরকারের কাছে দাবি, ছেলের লাশটা যেন দেশে এনে দেন এবং আমাদের পরিবারের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।
৩ মাস আগে সুরুজের ২ বছরের ছেলে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। প্রথমে একমাত্র সন্তান ও পরে স্বামীকে হারিয়ে পাগলপ্রায় গৃহবধূ সুমাইয়া আক্তার (২২)। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার স্বামীও নাই, সন্তানও নাই। কারে আগলাই বাঁচুম আমি। কে দেখবো আমারে? আল্লাহ গো তুমি আমারেও লইয়া যাও।’
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব মোবাইল ফোনে বলেন, পারিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করলে লাশ দেশে আনার জন্য সহযোগিতা করা হবে। এ ছাড়াও শোকাহত পরিবারটি পাশে উপজেলা প্রশাসন সব সময়ই থাকবে।
সদর মডেল থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্বে মাদারীপুরের এক যুবকের মৃত্যুর খবর স্বজনদের মাধ্যমে পেয়েছি। তিনি কিভাবে রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিলেন সে তথ্য আমাদের কাছে নেই। তবে নিহতের পরিবার এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ দিলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।