মেহেদী হাসান রনি গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী)
প্রকাশ : ২২ মে ২০২৬ ১৯:২৭ পিএম
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে রাজধানীমুখী কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের চাপ বেড়েছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে। গত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ৪২৩টি পশুবাহী ট্রাকসহ মোট ২ হাজার ১৩৫টি যানবাহন পারাপার হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, কোরবানির পশুবাহী ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ফেরিতে পারাপার করা হচ্ছে, যাতে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো যায়। ঘাটে পর্যাপ্ত ফেরি সচল থাকায় দীর্ঘ যানজট বা অপেক্ষার পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
তিনি আরও জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান এই নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় প্রশাসন, নৌপুলিশ, বিআইডব্লিউটিসি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
দৌলতদিয়া লঞ্চ মালিক সমিতির কার্যকরী প্রতিনিধি আব্দুর রশিদ মল্লিক বলেন, ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২০টি লঞ্চ ও আরিচা-কাজিরহাট নৌরুটে ১২টি লঞ্চ চলাচল করবে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে লঞ্চে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও বয়া থাকবে। লঞ্চে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন না করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর অঞ্চলের নৌপুলিশের পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, ফেরিঘাট, লঞ্চঘাট ও টহল টিমসহ মোট ৮৪ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দৌলতদিয়ায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষও চালু থাকবে। চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও যানজট নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ, ডিবি টিম ও মোবাইল পার্টি মাঠে থাকবে।
রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ বলেন, হাইওয়ে পুলিশসহ জেলা পুলিশের আওতাধীন এলাকায় পশুবাহী ট্রাক আটকানো হবে না এবং বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
পশুবাহী ট্রাকচালক ও খামারিরা জানিয়েছেন, আগের বছরের তুলনায় এবার ঘাটে ভোগান্তি কম হলেও তীব্র গরমে পশু সুস্থ রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বাসচালকরা অভিযোগ করেছেন, পন্টুনে ছোট যানবাহনের ভিড়ের কারণে বড় গাড়ি ওঠানামায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ঘাট ব্যবস্থাপনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে পন্টুনে ইজিবাইক ও রিকশার বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে প্রশাসনের আরও নজরদারির দাবি জানিয়েছেন তারা।
গত ঈদুল ফিতরের পর দৌলতদিয়ায় বাসডুবিতে ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর এবার বাড়তি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নামতে হবে এবং পন্টুনে ইজিবাইক বা অটোরিকশা উঠতে দেওয়া হবে না।
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে এবার সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সংখ্যা ২৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৯ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন বলেন, এবার ফেরিতে ওঠার আগে যাত্রীদের বাস থেকে নেমে যেতে হবে। পন্টুনের ওপর ইজিবাইক ও অটোরিকশা রাখা যাবে না। ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান থাকবে এবং জেলা প্রশাসন থেকে ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এবারের ঈদযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক হবে।