শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ২০:৪৫ পিএম
গাজীপুরের শ্রীপুরে ঈদুল আজহার ১১ দিন ছুটি, বকেয়া ওভারটাইমের টাকা পরিশোধ, মে মাসের পূর্ণ বেতন এবং কয়েক কর্মকর্তার অপসারণ দাবিতে আন্দোলন করেছে শ্রমিকরা। এ সময় তাদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এত কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার বহেরারচালা (কেওয়া পশ্চিমখণ্ড) এলাকার মিতালী গ্রুপের কেএসএস নিট কম্পোজিট লিমিটেড পোশাক কারখানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এদিকে সুইং সেকশনের কিছু শ্রমিক পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে বেআইনি ধর্মঘট, অন্য শ্রমিকদের কাজে বাধা, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান এবং উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করায় কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এসব বিষয় উল্লেখ করে গত বুধবার কারখানা ছুটির পর কর্তৃপক্ষ বৃহস্পতিবার (২১ মে) হতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কারখানার সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করে কারখানা বন্ধের নোটিস টানিয়ে দেয়।
আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ১১ দিনের ছুটি এবং কয়েক কর্মকর্তার অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে তারা কয়েক দিন ধরে আন্দোলন করে আসছে। বুধবার শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি জানায় কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে। ওইদিন ডিউটি শেষে কর্তৃপক্ষ কারখানা ছুটি দিয়ে দেয়। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকেরা কারখানায় গিয়ে বন্ধের নোটিস টানানো এবং পুলিশ সদস্যদেরকে দেখতে পায়। এতে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়। এ সময় শ্রমিকেরা কারখানায় জোর করে প্রবেশের চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে কারখানায় ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কয়েক শ্রমিককে লাঠিপেটা করেন। এতে শ্রমিকেরা উত্তেজিত হয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করলে শ্রমিকেরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
অপরদিকে মিতালী গ্রুপের কেএসএস নিট কম্পোজিট লিমিটেড কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পক্ষে মানবসম্পদ ও প্রশাসন (এইচআর অ্যান্ড অ্যাডমিন) বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) এএম নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত কারখানা বন্ধের নোটিসে কর্তৃপক্ষ দাবি করে, কেএসএস নিট কম্পোজিট (গার্মেন্টস বিভাগ) ঈদ উপলক্ষে ২০ দিনের অগ্রিম বেতন এবং ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করে পূর্বেই নোটিস প্রদান করেছে। কিন্তু ১৯ এবং ২০ মে সুইং সেকশনের কিছু শ্রমিক পূর্বানুমতি ব্যতিরেকে বেআইনি ধর্মঘট, অন্য শ্রমিকদের কাজে বাধা প্রদান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকি প্রদান এবং উৎপাদন কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করায় কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।
গাজীপুর শিল্পপুলিশের পুলিশ সুপার (এসপি) আমজাদ হোসাইন বলেন, কারখানা কর্তৃপক্ষ রাত ১২টার দিকে বন্ধের নোটিস টানিয়ে দেয়। সকালে শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিতে এসে বন্ধের নোটিস দেখে জোরপূর্বক কারখানায় প্রবেশের চেষ্টা করে। এ সময় বাধা দিলে শ্রমিকদের সাথে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ শ্রমিকদেরকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত আছে এবং কারখানায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।