বেতাগী (বরগুনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৯:০৮ পিএম
প্রশাসনিক কাজ, দাপ্তরিক সভা কিংবা উন্নয়ন প্রকল্পÑ এসবই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতিদিনের চিত্র। কিন্তু এবার সেই পরিচিত প্রথা ভেঙে দেশের উপকূলীয় জনপদ বরগুনার বেতাগীতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভিন্ন রূপে হাজির হয়ে গল্পের ছলে ইউএনওর নান্দনিক ও ব্যতিক্রমী পাঠদান পদ্ধতিতে উৎসাহিত ও উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) উপজেলার বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজে পরিদর্শনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আকস্মিক পাঠদান করান উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহ. সাদ্দাম হোসেন। এ সময় প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকির হোসাইনসহ শিক্ষকমণ্ডলী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের চোখে এ যেন অন্যরকমের পাঠদান। শিক্ষার্থীরা জানায়, ইউএনও স্যার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বাংলা বইয়ের ‘নিমগাছ’ গল্পটি পরম মমতায় ও সহজ সাবলীল ভাষায় অত্যন্ত চমৎকারভাবে ব্ল্যাকবোর্ডে বুঝিয়ে প্রাণবন্ত পাঠদান করেন। তাদের শ্রেণিকক্ষে এসে নানা প্রশ্ন করেছেন, মজার গল্প বলেছেন এবং পড়া মনে রাখার সহজ কৌশল শিখিয়ে দিয়েছেন।
বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ক্লাস শিক্ষক আলমতাজ বেগম কলি ইউএনওর এই আকস্মিক ও ব্যতিক্রমী পাঠদানে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘হঠাৎ করে ইউএনও স্যার আমার ক্লাসে এসে যখন শিক্ষক হিসেবে দাঁড়ালেন, প্রথমে শিক্ষার্থীরা ভয়ে একটুআতঙ্কিত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু স্যার এত সহজ ও সুন্দরভাবে বাংলা বইয়ের ‘নিমগাছ’ গল্পটি বুঝিয়ে পাঠদান করালেন যেন তাদের সব ভয় আর জড়তা কেটে গেছে।
বেতাগী নাগরিক ফোরামের সভাপতি লায়ন মো. শামীম সিকদার বলেন, প্রশাসনিক ব্যস্ততার মাঝেও সময় বের করে শিক্ষার্থীদের মাঝে গিয়ে এভাবে পরম মমতায় ক্লাস নেওয়া একজন আদর্শ ও দূরদর্শী কর্মকর্তার পরিচয় বহন করে। বেতাগীর ইউএনও মহোদয়ের এই চমৎকার উদ্যোগ আমাদের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করবে এবং তাদের ভেতরের জড়তা দূর করতে ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষাবান্ধব ইউএনও মুহ. সাদ্দাম হোসেন তার নিজের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করে বলেন, ‘এখানকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হিসেবে এর তদারকি আমার দায়িত্ব। নতুন সরকার মুখস্থ-নির্ভর বা সনাতন শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে, যার মূল লক্ষ্য হলো আনন্দময় শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও বিশ্বমানের নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা। তাই শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত ও পড়াশোনায় আরও মনোযোগী করতে এ ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।’