সজল জামান, জামালপুর
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৮:০৫ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৬ ১৮:১৯ পিএম
ঈদের বাকি আর মাত্র ৫দিন। আর এই ঈদকে সামনে রেখে জামালপুরে বিভিন্ন পশুর হাটে কুরবানি পশুর দাম তুলনামূলক কম থাকলেও এখনো জমে উঠেনি বাজার।
গত বছরের তুলনায় প্রতি গরুতে প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে বিক্রি হলেও ক্রেতাদের আশানুরূপ উপস্থিতি না থাকায় চিন্তিত গরু ব্যবসায়ী ও খামারিরা। তবে, বর্তমানে বাজার মন্দা থাকলেও ঈদের এক-দুই দিন আগে কুরবানির গরুর দাম বৃদ্ধি পাবে এ আশায় বুক বেঁধে রয়েছেন ব্যবসায়ীরা। জামালপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারি ও মৌসুমি গরু ব্যবসায়ীদের ব্যস্ততা বর্তমানে তুঙ্গে। সারা বছর পরম যত্নে লালন-পালন করা পশুকে হাটে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারা। তবে, অনেক খামারি ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা একটু বেশি দাম পাওয়ার আশায় রাজধানী ঢাকার উদ্দেশে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রশাসনের যদি কড়া নিরাপত্তা দেয় গরুগুলো নিয়ে ঢাকায় যেতে পারবেন এবং নিশ্চিন্তে বাড়ি ফিরতেও পারবেন।
বুধবার (২০ মে) জামালপুর সদরের মেলান্দহের
গাজীপুর কুরবানি পশুর হাট ঘুরে দেখা গেছে, ক্রেতার তুলনায় বিক্রেতার সংখ্যাই
বেশি। দূর-দূরান্ত থেকে গরু নিয়ে আসা কৃষক ও খামারিরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও
কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। অনেকেই বাধ্য হয়ে কম দামে বিক্রির কথা ভাবছেন। তবে, বেশিরভাগ
বিক্রেতাই এখনো আশা করছেন, ঈদ যত ঘনিয়ে আসবে, ততই ক্রেতা বাড়বে এবং বাজারে গতি ফিরে
আসবে।
জামালপুর শহরের সাহাপুর এলাকার
৬০ বছর বয়সি এক বৃদ্ধ তার ছেলে ও নাতিকে নিয়ে পশুরহাটে এসেছেন গরুর বাজার দেখতে।
তিনি বলেন, আমরা শহরে বসবাস করি শহরের বাড়িতে
গরুর লালন-পালন করা আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর। হাটে এসে পশুর খোঁজ-খবর নিলেও ঈদের ঠিক
দুদিন আগে গরু কিনব।
শহুরে জীবনে কোরবানির পশু আগেভাগে কিনে
রাখার ঝুঁকি এড়াতে তার মতো অনেক ক্রেতা এখন ঈদের এক- দুই দিন আগে পশু কেনার
সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলা থেকে ৯টি
গরু নিয়ে গাজীপুর হাটে এসেছেন খামারি আখতারুজ্জামান হেলাল। একদিকে তার মাথায় ঋণের
বুঝা অন্যদিকে বুক ভরা আশা। এই খামারি জানান, শেষ মুহূর্তে গরু মোটাতাজাকরণের
জন্য স্থানীয় সমিতি থেকে মাসিক কিস্তিতে ঋণ নিয়ে এই গরুগুলো লালন-পালন করেছেন। ঈদের
আগ মুহূর্তে সমিতির কর্মকর্তাদের কিস্তির চাপের কারণে বাধ্য হয়ে ৭০ হাজার টাকা
করে তিনি দুটি গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে বাকি গরুগুলো নিয়ে নতুন
স্বপ্ন দেখছেন তিনি। হেলাল বলেন, ইসলামপুর বা জামালপুর রেলস্টেশন থেকে
যদি বাংলাদেশ রেলওয়ের “বিশেষ ক্যাটল স্পেশাল ট্রেন” দিয়ে বাকি গরুগুলো নিয়ে তিনি
ঢাকায় যাবেন। ঈদের দুদিন আগে থেকে জামালপুরেও গরুর দাম বাড়বে; কিন্তু জামালপুর থেকে
এই গরু যদি ঢাকাতে নিতে পারি তাহলে আরও বেশি দাম পাব আর এই লাভের টাকা দিয়ে ঘুরে দাঁড়াবে
আমার পরিবার। সেই সঙ্গে আমি আমার খামারকে আরও বড় করব।
জেলার প্রাণিসম্পদ এ কর্মকর্তার জানান,
এবার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২ হাজার
১৫টি। তবে, এর বিপরীতে সারা জেলার ১২ হাজার ১৮৪টি ছোট বড় খামারে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫টি
কোরবানির পশু প্রস্তত করা হয়েছেÑ যা চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।
জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার ফারহানা
ইয়াসমিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। কেউ যেন কোনো
প্রতারণার শিকার না হয় সেদিকে আমরা খেয়াল রাখব।