× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

সিলেটের হাটে ভারতীয় গরু

আব্দুল মাজিদ চৌধুরী, সিলেট

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৭:৫৯ পিএম

আপডেট : ২১ মে ২০২৬ ১৮:০৯ পিএম

সিলেটের হাটে ভারতীয় গরু

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সিলেটের পশুর হাটগুলোতে ভারতীয় গরুর প্রবেশ বেড়েছেÑ এমন অভিযোগ উঠেছে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায়। স্থানীয় খামারি, ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের দাবি, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি ও নদীপথ ব্যবহার করে রাতের আঁধারে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করছে।

বিশেষ করে জৈন্তাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হরিপুর গরুর হাটকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা ও অভিযোগ শোনা যাচ্ছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, সীমান্ত এলাকা অতিক্রম করে একাধিক উপজেলা পেরিয়ে কীভাবে গবাদিপশু সিলেটের বিভিন্ন হাটে পৌঁছে যাচ্ছে।

গোলাপগঞ্জ উপজেলার উত্তরভাগ এলাকার খামারি সুহেল আহমদ বলেন, ‘খামারিরা অনেক খরচ করে দেশীয় গরু মোটাতাজা করেন। কিন্তু বাজারে কম দামের সন্দেহভাজন ভারতীয় গরু এলে আমরা ন্যায্যমূল্য পাই না। এতে ছোট খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।’

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বছর কোরবানির ঈদ সামনে এলেই চোরাচালান বেড়ে যায়। বিশেষ করে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুরের দুর্গম পাহাড়ি রুটগুলো গরু চোরাচালানে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

এ বিষয়ে সিলেট জেলা পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মনজুরুল আলম বলেন, ‘মেট্রোপলিটন এলাকার পশুর হাটগুলোতে এখন পর্যন্ত ভারতীয় অবৈধ গরুর প্রবেশের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যদি এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এবার সিলেট বিভাগে কোরবানির গরুর চাহিদা প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার গরু।

এদিকে সিলেটের মৌলভীবাজার জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য ৭৪ হাজার ৫৮৪টি পশু। জেলার ৭টি উপজেলায় ৬ হাজার ২২৫টি খামার ও পারিবারিক পর্যায়ে লালন-পালন করা এসব পশুর বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ৭৭২। এতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত উদ্বৃত্ত থাকবে প্রায় ২ হাজার ৮১২টি। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘এ বছর জেলায় কোরবানির পশুর সংকট নেই। সম্ভাব্য চাহিদার চেয়ে প্রায় ৩ হাজারের মতো পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।’

এদিকে সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে লালন-পালন করা হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার গবাদিপশু। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. নুরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর হবিগঞ্জ জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪৬ হাজার ৫০টি। এর বিপরীতে জেলায় প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার ১৩৫টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে ৩৪ হাজার ৯৭২টি গরু, ১১ হাজার ১২৩টি ছাগল, ৪ হাজার ৫২৯টি ভেড়া এবং ৬৫টি মহিষ। 

জেলার ১ হাজার ৪৪৪টি খামারে ছোট-বড় বিভিন্ন আকারের গবাদিপশু লালন-পালন করা হচ্ছে। এবার জেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া এলাকার ‘পিওর অ্যান্ড অর্গানিক ডেইরি ফার্ম’-এ লালন-পালন করা বিশাল আকৃতির একটি ষাঁড়। ফার্মের মালিক মুত্তাকিম চৌধুরী তিন বছর ধরে দেশীয় পদ্ধতিতে ষাঁড়টিকে লালন-পালন করেছেন। ১১০০ কেজি ওজনের এই ষাঁড়টির নাম রাখা হয়েছে ‘পুষ্পা’। ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

এদিকে কোরবানির মৌসুমে হবিগঞ্জের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে ভারতীয় পশু অবৈধভাবে প্রবেশের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় খামারিরা। তাদের দাবি, ভারতীয় পশু প্রবেশ করলে দেশীয় পশুর বাজারমূল্য কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ-৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান বলেন, জেলার ১০৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় অবৈধভাবে গরু প্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে, সীমান্তজুড়ে টহল জোরদার করা হয়েছে। 

প্রতিবেদন : ইসমাইল মাহমুদ (মৌলভিবাজার) ও আশরাফুল ইসলাম কহিনুর (হবিগঞ্জ)

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা