ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৭:৫৫ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৬ ১৮:১০ পিএম
ময়মনসিংহে এবার চাহিদার তুলনায় কোরবানির পশুর পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। জেলায় প্রায় ২৪ হাজার খামারে অতিরিক্ত ৪০ হাজার গরু প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফলে এ জেলায় কোরবানির পশু সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। অন্যদিকে নেত্রকোণার হাওরাঞ্চলের কৃষকদের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রভাব পড়েছে কোরবানির পশুর হাটগুলোতে।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ ওয়াহেদুল আলম জানিয়েছেন, ময়মনসিংহের ১১ উপজেলায় চলতি বছর ২ লাখ ২১ হাজার কোরবানির পশু পালন করা হয়েছে। এর বিপরীতে জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮১ হাজার। সে হিসাবে জেলায় অতিরিক্ত প্রায় ৪০ হাজার পশু মজুদ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলার প্রায় ২৪ হাজার খামারে এসব কোরবানির পশু পালন করা হয়েছে। চাহিদার তুলনায় বাড়তি পশু থাকায় জেলার বাইরে পশু সরবরাহের বিষয়েও ভাবছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। ময়মনসিংহে সরকারিভাবে কোরবানির পশু বিক্রির জন্য ৭১টি হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া জেলা শহরসহ প্রতিটি উপজেলায় অতিরিক্ত অস্থায়ী কোরবানির হাট বসার সম্ভাবনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে নেত্রকোণার পশুর হাটগুলোতে জমে উঠতে শুরু করেছে বেচাকেনা। তবে এবার হাওরাঞ্চলের কৃষকদের বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে কোরবানির পশুর হাটেও। বাজারে কোরবানির পশুর আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশ বিক্রেতারা। গত মঙ্গলবার মদন উপজেলার বটতলা কোরবানির পশুর হাট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
কৃষকদের ভাষ্য, বর্তমানে হাওরাঞ্চলের অনেক কৃষকের ঘরে ধান নেই; যা আছে তার বেশিরভাগই পচে গেছে। গবাদিপশুর খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। ফসলহানির ক্ষত কাটতে না কাটতেই শুরু হয়েছে কোরবানির ঈদের প্রস্তুতি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বাধ্য হয়ে তাদের গৃহপালিত পশু কোরবানির হাটে তুলছেন। কিন্তু বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় তারা চরম হতাশায় পড়েছেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, নেত্রকোণায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৫৭টি। এর বিপরীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৮টি পশু। সে হিসাবে জেলায় চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত ১৯ হাজারের বেশি পশু রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ১০৭টি স্থায়ী ও অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছে। প্রতিটি হাটেই প্রশাসন ও পুলিশের বিশেষ নজরদারি রয়েছে। পাশাপাশি কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ৩৯টি ভেটেরিনারি টিম মাঠে কাজ করছে।