মাশরুর মুর্শেদ, খুলনা
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৭:৫৩ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৬ ১৮:১৩ পিএম
সরকারি হিসাব বলছে, এবার কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই; বরং চাহিদার তুলনায় উৎপাদন অনেক বেশি। তবে মাঠপর্যায়ে খামারিদের সঙ্গে কথা বলে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। পশুখাদ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, খামার পরিচালনার বাড়তি ব্যয় এবং ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক খামারি। কেউ খামার গুটিয়ে নিয়েছেন, আবার কেউ নতুন করে পশু পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
খুলনার বিভিন্ন খামার ঘুরে দেখা গেছে, এবার কোরবানির জন্য দেশি জাতের পাশাপাশি শাহিওয়াল ও ফ্রিজিয়ান জাতের গরুও প্রস্তুত করেছেন খামারিরা। অধিকাংশ খামারেই গরু মোটাতাজাকরণে প্রাকৃতিক খাদ্যের ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু খাদ্য খরচের ঊর্ধ্বগতিতে সেই প্রস্তুতিই এখন বড় চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডুমুরিয়ার ক্ষুদ্র খামারি আলতাফ বলেন, দানাদার খাবারের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে মানুষ যতই আগ্রহী থাকুক, খামার টিকিয়ে রাখা কঠিন। একটা গরুকে প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকার খাবার খাওয়াতে হয়। এই খরচ বহন করা সবার পক্ষে সম্ভব না। দিন দিন খামার কমে যাচ্ছে।
আরেক খামারি আসাবুর জানান, শুধু খাদ্যের দাম নয়, খামার পরিচালনার অন্যান্য ব্যয়ও বেড়েছে। তিনি বলেন, প্রতি মাসে অন্তত ৩০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। খাবারের দাম আর ভাড়ার চাপে অনেকেই খামার ছেড়ে চলে গেছেন।
স্থানীয় খামারিদের অভিযোগ, কোরবানির সময় বাজারে দালাল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের কারণে প্রকৃত উৎপাদকরা ন্যায্যমূল্য পান না।
সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, উৎপাদনের দিক থেকে এবার বেশ ভালো অবস্থানে রয়েছে খুলনা অঞ্চল। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১০ লাখ ৭৯ হাজার ৪৪৯টি। বিপরীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ১৪ লাখ ৪৬ হাজার ৮০৯টি পশু। অর্থাৎ বিভাগে প্রায় ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৩৬০টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।
পশু বিক্রির সুবিধার্থে খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় এবার মোট ১৭০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন করা হচ্ছে। এর মধ্যে জোড়াগেট পশুর হাটসহ অন্তত ২৭টি হাট খুলনায় বসবে। এ ছাড়া বাগেরহাটে ২৯টি, সাতক্ষীরায় ১৬টি, যশোরে ২০টি, ঝিনাইদহে ২২টি, মাগুরায় ১৫টি, নড়াইলে ১০টি, কুষ্টিয়ায় ১৭টি, চুয়াডাঙ্গায় ৮টি এবং মেহেরপুরে ৬টি হাট স্থাপন করা হচ্ছে।
সোয়া লাখ পশু প্রস্তুত সাতক্ষীরায় : সাতক্ষীরা প্রতিবেদক কৃষ্ণ ব্যানার্জি জানান, কোরবানি ঈদ সামনে রেখে সীমান্তবর্তী জেলা সাতক্ষীরার খামারিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। জেলার বিভিন্ন উপজেলার ছোট-বড় খামারে এখন চলছে গরু মোটাতাজাকরণ, পরিচর্যা ও বাজারজাতের প্রস্তুতি।
বিশেষ করে শ্যামনগর, কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও সদর উপজেলার খামারগুলোতে দেশি জাতের গরুর পাশাপাশি উন্নত জাতের ষাঁড়ও প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এমএম মান্নান কবীর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, কোরবানি ঈদ উপলক্ষে সাতক্ষীরা জেলায় এবার মোট ১ লাখ ২০ হাজার ২২টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। জেলায় চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৬৪০টি পশুর। সে হিসেবে জেলায় উদ্বৃত্ত থাকছে ১৮ হাজার ৩৮২টি পশু।
দেবহাটার ঐতিহ্যবাহী পারুলিয়া পশুর হাট : দেবহাটা প্রতিবেদক এমএ মামুন জানান, সাতক্ষীরার সর্ববৃহৎ গরুর হাটÑ দেবহাটা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পারুলিয়া পশুর হাট। এখানে সারা বছরই বিপুলসংখ্যক গবাদি পশু কেনাবেচা হয়। রবিবার পশু হাট ঘুরে দেখা যায়, বাজারে বড় গরু না থাকলেও ছোট ও মাঝারি আকৃতির উপস্থিতি লক্ষ করার মতো। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর পশুর দাম কিছুটা বেশি।