প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৭:৫০ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৬ ১৮:১৪ পিএম
মুসলমানদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি কয়েকদিন। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে টুংটাং শব্দে মুখর কামারপল্লী। চলছে হাপর টানা, পুড়ছে কয়লা, জ্বলছে লোহা। হাতুড়ি পিটিয়ে কামাররা তৈরি করছেন দা, বঁটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম। শহর-গ্রামগঞ্জে সব জায়গায় কামাররা নতুন সরঞ্জাম তৈরির পাশাপাশি পুরনো দা, বঁটি, ছুরি ও চাপাতিতে শান দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। যেন দম ফেলার সময় নেই কামারদের। এ ব্যস্ততা চলবে ঈদুল আজহার দিন পর্যন্ত।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ততা বেড়েছে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার কামারপল্লীতে। দা, ছুরি, বঁটি, চাপাতি ও কুড়াল তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা, যেন দম ফেলার সময় নেই তাদের। দিন-রাত হাতুড়ি পেটানোর টুংটাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে এই কর্মযজ্ঞ।
কামার কার্তিক কুমার বলেন, কোরবানির ঈদ সামনে রেখে কাজের চাপ অনেক বেড়েছে। বছরের এই সময়টাতে আয়-রোজগার ভালো হয়। এটি আমাদের পূর্বপুরুষের পেশা, তাই মায়ার টানে এখনও আঁকড়ে ধরে আছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় ব্যস্ততা বেড়েছে কামার শিল্পীদের। কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার সরঞ্জাম গোছাতে ভিড় করছেন মানুষ। ফলে কামারদের হাপর টানার শোঁ শোঁ শব্দ আর হাতুড়ি পেটানোর শব্দে এখন মুখর চারপাশ। সরেজমিন কামারপট্টি ঘুরে দেখা গেছে, নতুন ছুরি, কোপদা (দা), বঁটি আর চাপাতি তৈরিতে যেমন ব্যস্ততা আছে, তেমনই পুরনো সরঞ্জামে শান দেওয়ার কাজও চলছে সমানতালে। কামাররা জানান, বছরের অন্য সময় কাজের চাপ কিছুটা কম থাকলেও কোরবানির ঈদের আগে তাদের আয়ের বড় সুযোগ তৈরি হয়। কয়লা-লোহার দাম বাড়লেও চেষ্টা করছি ক্রেতাদের সাধ্যের মধ্যে সরঞ্জাম তৈরি করে দিতে, জানান তারা।
বাজারে আসা এক ক্রেতা বলেন, শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে আগেভাগেই নতুন কোপদা আর ছুরি বানিয়ে নিচ্ছি। আগের চেয়ে লোহার দাম একটু বেশি মনে হচ্ছে, তবে কারিগরদের নিপুণ হাতের কাজ দেখে ভালো লাগছে।
টুংটাং শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে দিনাজপুরের হিলির চারমাথা, গোডাউন মোড়সহ বিভিন্ন কামারপল্লী। শুধু নতুন সরঞ্জাম তৈরিই নয়, কোরবানির পশু জবাই ও মাংস কাটার কাজে ব্যবহৃত পুরাতন দা-বঁটি, চাকু ও চাপাতি শান দেওয়া এবং মেরামতের কাজও চলছে পুরোদমে। ঈদ ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের আনাগোনাও বাড়ছে দিন দিন। কামাররা জানান, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কাজের চাপ অনেক বেশি। আশা করছি, এবার ব্যবসা ভালো হবে এবং কিছুটা লাভের মুখ দেখতে পারব।