× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

রাজবাড়ীতে নদীভাঙনে বিলীন বসতভিটা, বেড়িবাঁধ, কৃষিজমি

রাজবাড়ী প্রতিবেদক

প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬ ১৫:৩২ পিএম

আপডেট : ২১ মে ২০২৬ ১৫:৫৪ পিএম

রাজবাড়ীর নদীপাড়ে ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি।  ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রাজবাড়ীর নদীপাড়ে ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

রাজবাড়ীতে প্রমত্তা পদ্মা, গড়াই, হড়াই ও চত্রা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে এক বছরে প্রায় ২০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ, নদীতীর, ফসলি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জেলার হাজারো মানুষ। বিশেষ করে পদ্মা ও গড়াই নদীতে সারা বছরই অব্যাহত রয়েছে ভাঙন।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজবাড়ীর তথ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ও নদীতীর সংরক্ষণে প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার ৭৩৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এ জন্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বন্যায় গড়াই নদীর পাংশা উপজেলার কসবামাজাইল এলাকায় পাঁচটি স্থানে ১ দশমিক ৬০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। এছাড়া হাবাসপুর এলাকায় আরও ০ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার বাঁধ নদীতে বিলীন হয়েছে।

কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নে তিনটি স্থানে ০ দশমিক ৫৫০ কিলোমিটার এবং বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নে চারটি স্থানে ১ দশমিক ৬৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। একই উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের পাঁচটি স্থানে আরও ১ দশমিক ৭১০ কিলোমিটার বাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

হড়াই নদীর ভাঙনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার খানগঞ্জ ও বেলগাছি এলাকার পাঁচটি স্থানে ০ দশমিক ৮৫০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ধসে গেছে। অন্যদিকে পদ্মা নদীর ভাঙনে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের চারটি স্থানে ৪ দশমিক ৪৬০ কিলোমিটার নদীতীর বিলীন হয়েছে।

বরাট ইউনিয়নের দুটি স্থানে আরও ৩ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার এবং দাদশী ইউনিয়নের দুটি স্থানে ০ দশমিক ৪০০ কিলোমিটার নদীতীর ভেঙে গেছে। গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রামে তিনটি স্থানে ৩ দশমিক ৫০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ এবং দৌলতদিয়া এলাকায় ০ দশমিক ৬০০ কিলোমিটার নদীতীর নদীগর্ভে চলে গেছে।

সব মিলিয়ে জেলার ৩৭টি স্থানে প্রায় ১৯ দশমিক ২২০ কিলোমিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। এছাড়া বালিয়াকান্দি উপজেলার খাটিয়াগাড়া ও চরঘিকমলা এলাকায় চত্রা নদীর ভাঙনে পাকা সড়কও নদীগর্ভে চলে গেছে। এলজিইডি সড়ক সংস্কারে প্রকল্প গ্রহণ করেছে।

নদীভাঙনের শিকার জুলহাস সরদার বলেন, আমার বাবার একসময় একশ বিঘা জমি ছিল। এখন ছয় ভাই মিলে মাত্র ছয় বিঘা জমি আছে। এই এক বিঘা জমিই আমাদের ভরসা। ধানের ক্ষেত নদীতে গেলে আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে যাব।

গত এপ্রিল মাসে গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সি বাজার এলাকায় আবারও ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়। কয়েকদিনের ভাঙনে ধানের জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বেথুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কবরস্থান, ঈদগাহ ও শত শত বসতবাড়ি।

স্থানীয় কৃষক হাবিজল সরদার জানান, কয়েকদিনের ভাঙনে তার প্রায় তিন কাঠা ধানক্ষেত নদীতে চলে গেছে। এখন পেঁয়াজ ক্ষেতসহ অন্যান্য আবাদি জমিও ঝুঁকিতে রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর ভাঙন শুরু হলে প্রশাসনের দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়। পরে কিছু জিওব্যাগ ফেলা হলেও ততক্ষণে ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জমি নদীতে চলে যায়। এভাবে ধীরে ধীরে মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা।

দৌলতদিয়া ঘাট আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় ছয় কিলোমিটার স্থায়ী নদীতীর রক্ষা প্রকল্পের কথা থাকলেও সাত বছরেও প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে দেবগ্রাম ইউনিয়নেও কার্যকর কোনো ভাঙন প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

ভাঙনের আতঙ্কে এখন নদীপাড়ে দিন কাটাচ্ছেন শত শত পরিবার। অনেকে জমিতে থাকা কাঁচা পাট আগেভাগেই কেটে ফেলছেন, যাতে নদীতে বিলীন হওয়ার আগে কিছুটা হলেও ফসল রক্ষা করা যায়।

স্থানীয় সমাজসেবক জামাল মুন্সি বলেন, এখানে চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও চারটি মসজিদ রয়েছে। ভাঙন বন্ধ করা না গেলে সবকিছু নদীতে চলে যাবে। গত ২৫ বছর ধরে এখানে নদীভাঙন চলছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হামিদ মৃধা ও মজিদ ব্যাপারী বলেন, প্রতিবার জনপ্রতিনিধিরা আশ্বাস দিলেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। শত শত বিঘা জমি ও অসংখ্য ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেই।

গড়াই নদীপাড়ের বাসিন্দা শেখ মহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙা-গড়ার সঙ্গে আমরা অভ্যস্ত হয়ে গেছি। প্রতি বছর ভাঙন হলেও স্থায়ীভাবে কাজ হয় না। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।

চত্রা নদীপাড়ের বাসিন্দা আইয়ুব আলী বলেন, “নদী খননের পর থেকেই ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। পাংশা-বালিয়াকান্দি সড়কের অংশ নদীতে চলে গেছে। দুই-তিন বছর পার হলেও কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

রাজবাড়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. তাজমিনুর রহমান বলেন, ২০২৬ সালের বন্যায় পদ্মা, গড়াই, হড়াই ও চত্রা নদীর ৩৭টি স্থানে ভাঙন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সংস্কারে প্রায় ৯ হাজার ৭৩৮ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রয়োজন। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদীভাঙনে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, বসতভিটা ও ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলে ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা