চট্টগ্রামে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
চট্টগ্রামে কোরবানিকে সামনে রেখে পশুর বাজারে দেখা দিয়েছে ঘাটতির শঙ্কা। জেলার প্রায় ১১ হাজার খামারে চলছে পশু উৎপাদন। তা সত্ত্বেও বাড়তি উৎপাদন ব্যয় ও খামার বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘাটতি পূরণে বাইরের জেলা থেকে পশু আনতে হবে। তবে বাড়তি খরচের চাপ শেষ পর্যন্ত বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি পশু। ফলে চাহিদার তুলনায় ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৫২০টি।
প্রস্তুত পশুর মধ্যে রয়েছে ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৯৯৯টি ষাঁড়, ৯০ হাজার ৪৮৮টি বলদ, ৪৭ হাজার ৮৩৪টি মহিষ, ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫১৯টি ছাগল, ৪১ হাজার ৪২৩টি ভেড়া এবং ৩৩ হাজার ৭৯২টি গাভী।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পশু এনে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব হবে। ফলে শেষ পর্যন্ত বাজারে বড় ধরনের সংকট নাও দেখা দিতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, পশুখাদ্য ও জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় খামারিদের উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ক্ষতির আশঙ্কায় অনেকেই পশুপালন কমিয়ে দিয়েছেন, কেউ কেউ খামার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “প্রতি বছরই কিছু ঘাটতি থাকে। আমরা অন্যান্য জেলা থেকে পশু এনে তা পূরণ করি। তবে গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় অনেক খামার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৩০০টি খামার বন্ধ হয়েছে”।
খামারিরা বলছেন, গত কয়েক মাসে পশুপালনের খরচ ব্যাপক বেড়েছে। জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর চালাতে বাড়তি ব্যয় হচ্ছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে, যা উৎপাদন ব্যয়ে প্রভাব ফেলছে।
আর বি এগ্রোর খামারি রবিউল হক চৌধুরী বলেন, “আগে ব্যাংক থেকে যে সুবিধা পেতাম, এখন তা পাচ্ছি না। পরিবহন ভাড়া বেড়েছে। গত কয়েক মাস ধরে আমরা নানা সমস্যার মধ্যে আছি। এই ব্যবসা এখন প্রায় অলাভজনক হয়ে গেছে”।
খামার মালিক দিদার হোসেন বলেন, “শুধু গোখাদ্য নয়, ওষুধ ও কৃমিনাশকের দামও বেড়েছে। শুধু খাবারের বস্তা প্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। একজন শ্রমিকের পেছনে মাসে ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত খরচ হয়, যা উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে”।
ইউনিচেম এগ্রোর মালিক ইয়াসফি ইয়ানাত চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রামে লাল গরুর চাহিদা বেশি। তাই আমরা লাল শাহীওয়াল, লাল ব্রাহমা ও দেশাল জাতের গরু পালনের চেষ্টা করি। কিন্তু এসব গরু পালনের খরচও এখন অনেক বেড়েছে। খাদ্য, চিকিৎসা, শ্রমিক মজুরি ও পরিবহন ব্যয়—সব মিলিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে”।
উৎপাদন ব্যয় বাড়ার প্রভাব কোরবানির পশুর বাজারে পড়তে পারে। এতে দাম বাড়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।