রামপাল (বাগেরহাট) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬ ২১:৪৭ পিএম
রামপালে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা থেকে রেহাই পেতে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা সংবাদ সম্মেলন করেছেন। বুধবার (২০ মে) দুপুর ১২টায় ফয়লাহাটের সন্তোষপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মল্লিক খলিলুর রহমান তার বাসভবনে এ সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের সুদৃষ্টি প্রত্যাশা করেন।
সন্তোষপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মল্লিক খলিলুর রহমান লিখিত বক্তব্যে অভিযোগে জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পারগোবিন্দপুর এলাকার মৃত শামছুউদ্দিন পাটোয়ারীর ছেলে মোস্তফা কামাল হালিম বিভিন্নভাবে তার (মুক্তিযোদ্ধা খলিলের) সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শরণাপন্ন হলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সাময়িকভাবে পিছু হটেন। পরবর্তী সময়ে তিনি রামপাল উপজেলা ইউএনও ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। প্রশাসন তার সম্পত্তি রক্ষায় পদক্ষেপ নেয় বলেও জানান তিনি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা মল্লিক আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অভিযুক্তের ছেলে ইসতিয়াক বাসিত তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেন। ভয়ে তিনি এক লাখ টাকা দিতে বাধ্য হন। এরপর গত বছরের ১৯ মার্চ রাত ১০টার দিকে ইসতিয়াক, মিলন মল্লিক, আসাদ শেখসহ ৮-১০ জন তার বাড়িতে এসে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন। ভয়ভীতি দেখিয়ে ৮০ হাজার টাকা নিয়ে যায় তারা। একই সঙ্গে ফয়লা চৌরাস্তা এলাকায় তার জমিতে জোর করে ঘর নির্মাণের হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় পুনরায় তিনি ইউএনও ও এসিল্যান্ড বরাবর আবেদন করলে ঘর নির্মাণ বন্ধ থাকে বলে জানান তিনি।
তবে পরবর্তী সময়ে গত ২ এপ্রিল তার ও পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ভূমি আইনে মামলা করা হয়। এরপর গত ১৭ মে তার স্ত্রী, কন্যা, জামাতা ও আত্মীয়সহ মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে আরেকটি মামলা করা হয়েছে বলে তিনি জানান। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মল্লিক।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা মোস্তফা কামাল পাটোয়ারি ও তার ছেলে ইশতিহার বাসিতের কাছে জানতে চাইলে তারা সবাই অভিযোগ অস্বীকার করেন।