প্লাবন শুভ, ফুলবাড়ী (দিনাজপুর)
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬ ২০:৫৬ পিএম
আপডেট : ২০ মে ২০২৬ ২১:২২ পিএম
বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র দীর্ঘ সাত মাস পর জেনারেল ওভারহোলিং শেষে বুধবার (২০ মে) বিকেল ৫টা ৪৬ মিনিটে ২৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষম হয়ে ফিরেছে তৃতীয় ইউনিট।
তৃতীয় ইউনিটটি
চালুর পরে এ ইউনিট থেকে বর্তমানে ২০ মেগাওয়াট উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ
করা শুরু করেছে বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা ৬টায়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী
মো. আবু বক্কর সিদ্দিক। তবে ক্রমান্বয়ে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়বে বলেও তিনি জানান।
প্রধান প্রকৌশলী
মো. আবু বক্কর সিদ্দিক আরও জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ইউনিটটি বন্ধ ছিল। এ সময়
ওভারহোলিংয়ের কাজ শেষ করা হয়। বর্তমানে চালু হওয়া তৃতীয় ইউনিটসহ প্রথম ইউনিট থেকে মোট
বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ৭০ মেগাওয়াট। এর মধ্যে প্রথম ইউনিটে ৫০ মেগাওয়াট এবং তৃতীয় ইউনিটে
২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। আগামীকাল (২১ মে) প্রথম ও তৃতীয় এই দুই ইউনিট থেকে
৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করছেন।
৫২৫ মেগাওয়াট
ক্ষমতাসম্পন্ন কয়লাভিত্তিক বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট তিনটি ইউনিট রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের
দায়িত্বহীনতার কারণে ২০২০ সালের নভেম্বরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২নং ইউনিটটি সাড়ে
চার বছরেও মেরামতের অভাবে অচলাবস্থায় পড়ে রয়েছে। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ,
পিডিবি ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি
বলে ২নং ইউনিটটি অকেজো অবস্থায় আজও পড়ে রয়েছে
বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে ২নং ইউনিটটি মেরামত করে সচল করতে ২০০ কোটি টাকার প্রয়োজন
বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী।
পার্শ্ববর্তী
বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির উৎপাদিত কয়লা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পরিচালনা করছে চীনা
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন সচল রাখতে ছোটখাটো
মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তা করা হয়নি
বলে অভিযোগ। জোড়াতালির মেরামতে বারবার ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, প্রতিটি
ইউনিট চালাতে দুইটি ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প প্রয়োজন। ২০২২ সাল থেকে ৩নং ইউনিটের
দুইটি পাম্পের একটি বিকল। ঝুঁকি নিয়েই একটি পাম্প দিয়ে উৎপাদন চালানো হচ্ছিলÑ যার ফলে,
মাঝে মধ্যেই ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যেত।