নেত্রকোনা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬ ২০:৫১ পিএম
নেত্রকোনায় পশুরহাট ইজারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নেত্রকোনায় কোরবানির পশুরহাট ইজারা নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
জেলার পূর্বধলা উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার পরপরই পশুরহাট ইজারা কার্যক্রম স্থগিত করে দেয় প্রশাসন।
প্রশাসন ও প্রত্যক্ষদর্শী জানায়, উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের ৫৩টি স্থানে অস্থায়ী পশুরহাট বসানোর উদ্দেশ্যে মঙ্গলবার একটি ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন।
সেই অনুযায়ী বুধবার দুপুরে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহানের উপস্থিতিতে সম্মেলনকক্ষে প্রকাশ্য ইজারা ডাক (নিলাম) শুরু হয়। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীসহ সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।
নিলাম চলাকালীন একটি হাটের ডাকে দরকষাকষিকে কেন্দ্র করে সভাকক্ষেই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা সম্মেলন কক্ষের ভেতরে ও বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, এই হট্টগোলের সময় উভয়পক্ষের কয়েকজন নেতাকর্মী মারধরের শিকার ও আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করে।
নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা মুঠোফোনে বলেন, “আমি ঢাকায় অবস্থান আছি। শুনেছি, বিএনপির নেতাকর্মীরা বলপ্রয়োগ করে বাজারের ইজারা নেওয়ার চেষ্টা করলে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এই ঘটনায় আমার দলের (জামায়াত) কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমি বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি”।
এদিকে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার বলেন, “জামায়াতের লোকজনই একক প্রভাব খাটিয়ে উপজেলার সবকটি পশুরহাটের ইজারা একচেটিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। এ নিয়ে সাধারণ দরদাতাদের মাঝে উত্তেজনা তৈরি হয়। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো ধরণের হামলার ঘটনা ঘটেনি”।
পূর্বধলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত ইউএনও তাসনীম জাহান বলেন, “পশুরহাটের ইজারা নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে হট্টগোল সৃষ্টি হওয়ায় ইজারা কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত জানানো হবে”।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।