রাকিবুল ইসলাম, রায়পুর (লক্ষ্মীপুর)
প্রকাশ : ২০ মে ২০২৬ ২০:১০ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার পশুর হাটগুলো জমে উঠতে শুরু করেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বিভিন্ন পশুর হাটে কোরবানির গরুর ব্যাপক সরবরাহ দেখা গেছে। তবে ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ফলে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন খামারি ও বিক্রেতারা। চাহিদার তুলনায় বাজারে পশুর সংখ্যা বেশি থাকায় দর কমে যাচ্ছে বলে মনে করেন তারা।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২৭ হাজার ১৮৫টি গরু। বিপরীতে উপজেলায় সম্ভাব্য চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ২৩০টি। সে হিসেবে উপজেলায় চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত রয়েছে প্রায় ১৩ হাজার ৯৫৫টি গরু। উপজেলার ছোট-বড় প্রায় ৬০টি খামারে গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া নিয়মিতভাবে গরু পালন করছেন আরও প্রায় ২৫০ জন খামারি।
উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী, কেরোয়া, চরমোহনা ও পৌর শহরের বিভিন্ন অস্থায়ী পশুর বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় বিভিন্ন জাতের গরু নিয়ে হাটে অবস্থান করছেন খামারিরা। তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও গরু বিক্রি করতে পারছেন না। আবার অনেকে বাধ্য হয়ে কম দামে গরু বিক্রি করছেন।
স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী আবদুল মালেক জানান, প্রায় এক বছর ধরে একটি গরু লালন-পালন করতে অনেক খরচ হয়েছে তার। গরুর খাবার, ওষুধ ও শ্রমিকের ব্যয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে খড়, ভুসি, ভুট্টা ও প্রস্তুতকৃত খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু পালন এখন অনেক ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, গরুর পেছনে প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সেখানে এক লাখ ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার বেশি বলছেন না ক্রেতারা।
আরেক ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, “বাজারে গরু বেশি, কিন্তু ক্রেতা কম। অনেকেই মনে করছেন ভারত থেকে গরু আসবে। এতে স্থানীয় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
নতুন বাজারের খামারি নেয়ামত উল্লাহ জানান, গত কয়েক বছরে গরুর খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। আগে যে খাদ্য কম দামে পাওয়া যেত, এখন তা প্রায় দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে গরুর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে গরুর দামও তুলনামূলক বেশি রাখতে হচ্ছে। কিন্তু সেই দাম দিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না অনেক ক্রেতা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কয়েক বছর ধরে দেশীয় খামারিরা কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কিন্তু বাজারে গুজব ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক সময় দাম ওঠানামা করে। এ অবস্থায় খামারিদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
রায়পুর উপজেলার বাহার আলী মোল্লারহাট গরুর বাজারে আসা ক্রেতা মনির হোসেন বলেন, “গরুর দাম এখনও অনেক বেশি মনে হচ্ছে। তাই অনেকে অপেক্ষা করছেন। ঈদের আরও কাছাকাছি গেলে দাম কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করছে সবাই”।
রায়পুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ আতাউর রহমান জানান, উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট নেই। স্থানীয় খামারিরা চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত করেছেন। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে খামারিরা ধীরে ধীরে ভালো দাম পাবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।