সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬ ২২:৪৬ পিএম
নিহতের পরিবারের সঙ্গে ভার্চুয়ালি কথা বলছেন বন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সুন্দরবনে এক জেলেকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় প্রকৃত দোষীদের শাস্তি হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মঙ্গলবার নিহত ব্যক্তির পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং সান্ত্বনা দেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সুন্দরবনে জেলে নিহতের ঘটনাটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। এই হত্যার ঘটনায় একটি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে এবং প্রকৃত দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
সুন্দরবনের নিষিদ্ধ অভয়ারণ্য এলাকায় কাঁকড়া ধরার সময় বন বিভাগের গুলিতে জেলে আমিনুর রহমান গাজী (৪৫) নিহতের ঘটনায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার বিকালে বিক্ষুব্ধ জনতা বন বিভাগের অফিসে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে।
নিহত জেলের বাড়িতে গিয়ে মঙ্গলবার শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সরকারের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা নিহত জেলের বাড়ি গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামে যান।
নিহত আমিনুর পাঁচটি সন্তান রয়েছে। তার বাড়িতে গিয়ে ড. মনিরুজ্জামান বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহযোগিতা দেন এবং সন্তানদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।
মনিরুজ্জামান বলেন, একটি সাধারণ পাস নিয়ে বনে যাওয়া অসহায় জেলের বুকে এভাবে গুলি চালানো কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা বিএনপির পক্ষ থেকে এই শোকাবহ পরিবারের পাশে আছি। আজকে আমরা তাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছি এবং নিহত আমিনুরের পাঁচটি এতিম সন্তানের পাশে থাকার ও তাদের দেখভালের অঙ্গীকার করেছি।
অন্যদিকে নিহতের পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে এবং সহায়তা করতে আসে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান নিহতের পরিবারকে জামায়াতের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন।
মাওলানা আব্দুর রহমান বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে এই পরিবারটি আজ দিশেহারা। জামায়াতে ইসলামী সব সময় মজলুমের পাশে থাকে। আমরা আজ এই অসহায় পরিবারটিকে আর্থিক সহযোগিতা করেছি এবং জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই পাঁচ সন্তানের দায়িত্ব নিয়ে সব সময় পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
গত বৃহস্পতিবার সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন আমিনুরসহ চার জেলে। সোমবার সকাল ৭টার দিকে খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের পাটকোস্টা হেলাবাসী অভয়ারণ্য এলাকায় কাঁকড়া আহরণের সময় বন বিভাগের স্মার্ট পেট্রোলিং টিমের সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে আমিনুর রহমান গাজী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এই ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পরে সোমবার বিকালে নিহত জেলে আমিনুর রহমানের মরদেহ নিয়ে শত শত বিক্ষুব্ধ বনজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দা লাঠিসোঁটা হাতে শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস ও পাশের স্টেশন অফিসে চড়াও হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা বন বিভাগের কর্মীদের খুঁজে খুঁজে মারধর করে এবং অফিস ভবনসহ ভেতরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।
হামলায় বনকর্মী তপন, মেজবাহ, ফারুক, এখলাছুর ও ফায়জুর মারাত্মক আহত হন। খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, সুন্দরবনে গুলিতে জেলে নিহত এবং পরে বন বিভাগের অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে এই পৃথক দুটি ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা করেনি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।