শ্রীমঙ্গল সংবাদদাতা
প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬ ২০:৪০ পিএম
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সিএনজি চালিত অটোরিকশা চালক- মাইক্রোবাস চালকদের মধ্যে দিনব্যাপী দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনায় রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে এলাকাজুড়ে।
এ ঘটনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে দায়িত্ব পালনরত ৬ গণমাধ্যমকর্মীসহ
অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ৫ জনকে গুরুতর অবস্থায় মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা
বিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায়
আতঙ্কে রয়েছেন সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজার-৪ আসনের
সংসদ সদস্য দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করলে উভয়পক্ষ শান্ত হয়।
এ ঘটনায় আহতরা হলেনÑ দৈনিক প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার মৌলভীবাজার
প্রতিবেদক জ্যেষ্ঠ্ সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ, দৈনিক খোলা কাগজ পত্রিকার মৌলভীবাজারের
স্টাফ রিপোর্টার এহসানুল হক, দৈনিক ভোরের ডাক পত্রিকার শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি আমজাদ হোসেন
বাচ্চু, দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকার উপজেলা মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক মো. আল আমিন মিয়া,
শ্রীমঙ্গল প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য নূর মোহাম্মদ সাগর, পরিবহন শ্রমিক উজ্জ্বল
কুমার দাশ, রাব্বি, আউয়ুব আলী প্রমুখ। বাকি দুজনের নাম তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
গুরুতর আহতদের মধ্যে গণমাধ্যমকর্মী আমজাদ হোসেন বাচ্চু, পরিবহন
শ্রমিক বিশাল, আউয়ুব আলী, রাব্বি ও সওকতকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর আধুনিক
হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর একজনের নাম জানা যায়নি। এ সময় বিবাদমান দুই পক্ষের
মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ প্রত্যাহারের পর বিকেল ৪টার
দিকে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। উভয়পক্ষের সংঘর্ষ চলাকালে ঘটনার ভিডিও ধারণ ও
ছবি তোলার সময় পরিবহন শ্রমিকদের হামলায় আহত হন ৬ গণমাধ্যমকর্মী। সাংবাদিকদের ওপর হামলার
খবর পেয়ে তাদের দেখতে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছুটে যান মৌলভীবাজার-৪
আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.
জিয়াউর রহমান ও থানার ওসি শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না। তিনি আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার
খোঁজখবর নেন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত
রয়েছে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।