রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে দুই শ্রমিক পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে সোমবার (১৮ মে) ১২ ঘণ্টা রাজশাহী সঙ্গে সারা দেশের বাস চলাচল বন্ধ ছিল। এতে করে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। সারাদিনের নাটকীয়তার শেষে রাতে নতুন কমিটি স্থগিতের ঘোষণার পর বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়।
শ্রমিকরা জানান, গত রবিবার কেন্দ্র থেকে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি এবং মমিনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্যের রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকদের একাংশ। এ নিয়ে সোমবার সকাল থেকে তারা সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন।
রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল জানিয়েছেন, এই কমিটির অধীনে তারা বাস চালাবেন না। এজন্য সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা চাই এভাবে কমিটি না দিয়ে দ্রুত নির্বাচন দেওয়া হোক। নির্বাচনের যে জিতবে সেই শ্রমিকদের পরিচালনা করুক।
তবে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থানীয় মন্ত্রী এবং এমপিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় ফেডারেশন এই কমিটি ঘোষণা করেছে। কমিটিতে কিছু শ্রমিক বাদ পড়েছে। তারাই মূলত বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন। তবে শিগগিরই বিষয়টি সমঝোতা করা হবে। এদিকে এই ঘটনার পর পরিবহন শ্রমিকবৃন্দ সোমবার রাত ৮টার দিকে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করেন। জেলা প্রশাসক তাদেরকে আশ্বস্ত করার পর শ্রমিকরা তাদের পরিবহন ধর্মঘট তুলে নেন।
জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, শ্রমিক ইউনিয়নের দেওয়া নতুন একটি কমিটিকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। তবে সোমবার কেন্দ্রীয় ফেডারেশন থেকে আমাকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান কমিটি সোমবার থেকে ঈদের পরের ১০ দিন পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এমন সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের মধ্যস্থতায় শ্রমিকরা বাস চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।