সিলেট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ মে ২০২৬ ২১:৫৫ পিএম
জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর গরুর হাটের চিত্র। ছবি: মুরাদ হাসান
সিলেটের পশুর হাটগুলোতে ভারতীয় গরু ছড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয় খামারিরা। তাদের দাবি, জেলার গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি ও নদীপথ ব্যবহার করে রাতের আঁধারে ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু প্রবেশ করছে। পরে সেগুলো জেলার বিভিন্ন হাট ঘুরে সিলেট নগরীর বাজারেও পৌঁছে যাচ্ছে।
কোনোভাবে গরু হাটে পৌঁছানোর পর সেটিকে ‘বৈধ’ দেখানোর প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা আগেই প্রস্তুত রাখা হয় বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খামারিদের।
দক্ষিণ সুরমার গঙ্গানগরের ইসলাম অ্যাগ্রোর মালিক নজমুল ইসলাম বলেন, সারা বছর কষ্ট করে গরু পালন করি, যাতে ঈদে ভালো দাম পাই। কিন্তু ভারতীয় গরু আসায় দেশীয় গরুর দাম কমে যায়। অনেক সময় মূলধন উঠলেও লাভ থাকে না।
গোলাপগঞ্জ উপজেলার উত্তরভাগ এলাকার খামারি সুহেল আহমদ বলেন, খামারিরা অনেক খরচ করে দেশীয় গরু মোটাতাজা করেন। কিন্তু বাজারে কম দামের সন্দেহভাজন ভারতীয় গরু এলে আমরা ন্যায্য মূল্য পাই না। এতে ছোট খামারিরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন।
সীমান্ত এলাকা অতিক্রম করে একাধিক উপজেলা পেরিয়ে কীভাবে ভারতীয় গরু সিলেটের বিভিন্ন হাটে পৌঁছে যাচ্ছে, এমন প্রশ্ন খামারিদের।
হাটে আসা একাধিক ব্যবসায়ী জানান, তুলনামূলক কম দামের কারণে অনেক ক্রেতা ভারতীয় গরুর প্রতি আগ্রহ দেখান। এতে দেশীয় গরুর বিক্রি কমে যাবে এবং বাজারে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
এ বিষয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মনজুরুল আলম বলেন, “মেট্রোপলিটন এলাকার পশুর হাটগুলোতে এখন পর্যন্ত ভারতীয় অবৈধ গরু প্রবেশের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যদি এ ধরনের কোনো অভিযোগ বা তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা কৃষিবিদ মিজানুর রহমান মিয়া বলেন, “ভারতীয় গরু বেশি প্রবেশ করলে দেশীয় খামারিরা ক্ষতির মুখে পড়বেন। আবার গরুর সংকট হলে ভোক্তাদের বেশি দামে পশু কিনতে হবে। দুটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাজারে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এবার দেশীয় গরুর সরবরাহ ভালো রয়েছে। আশা করছি, কোরবানির বাজার ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের জন্যই স্বস্তিদায়ক হবে”।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার সিলেট বিভাগে কোরবানির গরুর চাহিদা প্রায় ২ লাখ ৭২ হাজার। এর বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮৬ হাজার গরু। শুধু সিলেট জেলাতেই চাহিদা প্রায় ১ লাখ ২ হাজার এবং সরবরাহ রয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭ হাজার। বিভাগজুড়ে গবাদিপশুর সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখ, যার মধ্যে সিলেট জেলাতেই রয়েছে প্রায় ১১ লাখ গবাদিপশু।
এদিকে সিলেট সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, নগরীতে এবার মোট ছয়টি অনুমোদিত পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে একটি স্থায়ী এবং পাঁচটি অস্থায়ী হাট।
খামারি ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, অবৈধভাবে গরু প্রবেশ বন্ধে শুধু সীমান্তে নয়, হাট পর্যায়েও কঠোর নজরদারি ও যাচাই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দেশের খামার শিল্প দীর্ঘমেয়াদে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।