মধুখালী (ফরিদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬ ১৭:৩৫ পিএম
আপডেট : ১৭ মে ২০২৬ ১৭:৫৮ পিএম
মধুখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ২০ নম্বর শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছ এখন সবার নজর কাড়ছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
গ্রীষ্মের তীব্র তাপদাহের মাঝেও মাঝে মাঝে বৃষ্টির ছোঁয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে প্রকৃতিতে। যদিও গরম কমার নাম নেই। তবে গ্রীষ্মের মাঝামাঝি সময়ে অন্যান্য জেলার মতো মনোরম আবহাওয়া আর কৃষ্ণচূড়ার লাল আভায় সেজে উঠেছে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার সড়ক ও জনপদ। নির্মল বাতাস আর দৃষ্টিনন্দন ফুলের সৌন্দর্যে স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছেও জায়গাটি হয়ে উঠেছে বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
মধুখালী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ২০ নম্বর শ্রীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছ এখন সবার নজর কাড়ছে। লাল টুকটুকে ফুলে ভরা গাছটির নিচে প্রতিদিন স্কুলের শিক্ষার্থীরা ফুল কুড়িয়ে আনন্দে মেতে ওঠে। বিকেল হলে বিদ্যালয় মাঠে ভিড় বাড়ে প্রকৃতিপ্রেমী ও সেলফিপ্রেমীদের। অনেকে গাছটির সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করে স্মৃতি ধরে রাখতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা কুটি জানান, প্রায় ২৬ থেকে ২৭ বছর আগে মরহুম আলহাজ্ব মজিবুর রহমান সরদার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কৃষ্ণচূড়ার চারাটি রোপণ করেছিলেন। সময়ের পরিক্রমায় সেই ছোট্ট চারাই এখন বিশাল বৃক্ষে পরিণত হয়েছে। ফুলে ফুলে ভরে ওঠা গাছটি প্রকৃতিপ্রেমীদের মুগ্ধ করছে প্রতিনিয়ত।
অন্যদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের মাঝকান্দী থেকে ফরিদপুর জেলার শেষ প্রান্ত কামারখালী গড়াই সেতু পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে দেখা মিলছে সারি সারি কৃষ্ণচূড়া গাছের। প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে উজ্জ্বল লাল ফুল যেন পুরো মহাসড়ককে দিয়েছে এক অন্যরকম নান্দনিকতা। দূর থেকে দেখলেই চোখ জুড়িয়ে যায় পথচারীদের।
সেখানে ঘুরতে আসা সোহান, রাকিবসহ কয়েকজন জানান, মহাসড়কের পাশের কৃষ্ণচূড়ার সৌন্দর্য তাদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। তাই এই মনোমুগ্ধকর মুহূর্তগুলো স্মরণীয় করে রাখতে তারা ছবি তুলছেন এবং সময় কাটাচ্ছেন প্রকৃতির সান্নিধ্যে।

বাংলা কবিতা, সাহিত্য ও গানে কৃষ্ণচূড়া বরাবরই ভালোবাসা, আবেগ ও সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে। বিদেশি এই বৃক্ষ আজ গ্রামবাংলার ঐতিহ্যেরই এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। সবুজের বুক চিরে ফুটে থাকা রক্তিম ফুলের মোহনীয় রূপ পথচারীকেও থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করে।
প্রকৃতির এই সৌন্দর্য ধরে রাখতে অনেকেই এখন বাড়ির আঙিনা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিনোদন কেন্দ্র ও রাস্তার পাশে কৃষ্ণচূড়া গাছ রোপণে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। মধুখালীর কৃষ্ণচূড়ার এই রঙিন সৌন্দর্য যেন নতুন করে মানুষকে টানছে প্রকৃতির কাছাকাছি।