ফুলবাড়ী রেল স্টেশনের বেশিরভাগ অংশে যাত্রীছাউনি না থাকায় রোদ-বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে যাত্রীদের প্রতিনিয়ত এভাবেই ট্রেনে ওঠানামা করতে হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ব্রিটিশ শাসনামলে (১৮৭৮ সাল) নির্মিত দেশের অন্যতম প্রাচীন দিনাজপুরের ফুলবাড়ী রেল স্টেশনটি উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ রেলপথ।
তবে দীর্ঘদিন ধরে আধুনিকায়ন ও নিয়মিত সংস্কারের ছোঁয়া না লাগায় এই স্টেশন দিয়ে যাতায়াতকারী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন, পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত সুবিধা মিলছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০ বছর আগে প্ল্যাটফর্মের নষ্ট টিন বদলিয়ে কিছু সংস্কার করা হলেও এরপর বড় কোনো উন্নয়ন হয়নি।
প্ল্যাটফর্মের মাঝখানে অল্প জায়গায় যাত্রী ছাউনি থাকলেও দুই প্রান্ত উন্মুক্ত থাকায় রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ট্রেনে ওঠানামা করতে হয়। ছাউনির টিন ফুটো হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই প্ল্যাটফর্ম পানিতে ভরে যায় বলেও অভিযোগ তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে রবিবার দেখা যায়, স্টেশনের বিশ্রামাগার ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শৌচাগার না থাকায় যাত্রীদের পৌরসভার শৌচাগারে যেতে হয়। ২নং প্ল্যাটফর্মে কোনো যাত্রী ছাউনি না থাকায় সেখানে পুরোপুরি উন্মুক্ত অবস্থায় ট্রেন ব্যবহার করতে হয় যাত্রীদের।
এদিন আরও দেখা যায়, দুই প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ওভারব্রিজ না থাকায় যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রেললাইন পার হচ্ছেন। প্ল্যাটফর্মগুলো ট্রেনের পাটাতনের চেয়ে নিচু হওয়ায় ওঠানামায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা।
এ বিষয়ে কথা হয় বেশ কয়েজন স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা অভিযোগ করেন, রেলের জমির কিছু অংশ অবৈধভাবে দখল করে বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়েছে।
অনেকে ইজারা নেওয়া জমি ভরাট করে মার্কেট নির্মাণ করে ব্যবসা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তারা আরও বলেন, স্টেশনে সীমানা প্রাচীর না থাকায় নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই চলাচল করতে হয় যাত্রীদের।
নিয়মিত যাত্রী রাকিব হাসান বলেন, যাত্রী সংখ্যা বাড়লেও আসন না বাড়ায় টিকিট সংকটে পার্বতীপুর বা চিলাহাটি থেকে টিকিট নিয়ে দূরপাল্লার ট্রেনে উঠতে হয়। একইভাবে চিলাহাটি, সৈয়দপুর বা পার্বতীপুরের ট্রেন ধরতে জয়পুরহাট থেকে টিকিট নিতে হচ্ছে অনেককে।
ফুলবাড়ী শাখা তেল গ্যাস খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, ব্রিটিশ আমলের এই স্টেশনে এখনো পুরোনো সিগন্যাল পদ্ধতিতে ট্রেন চলাচল করছে।
এই স্টেশন ব্যবহার করে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র, মধ্যপাড়া পাথরখনি, বিজিবি সদর দপ্তরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলার মানুষ যাতায়াত করেন। বিপুল রাজস্ব আদায় হলেও সংস্কারের উদ্যোগ নেই বলেও জানান তিনি।
ফুলবাড়ী সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক শ্রমিক নেতা মো. হামিদুল হক বলেন, আধুনিকায়ন ও আন্তঃনগর পঞ্চগড় ও কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতির দাবিতে ১৫ মে থেকে মানববন্ধন ও স্মারকলিপির মাধ্যমে আন্দোলন চলছে। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
ফুলবাড়ী রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনন্দ চক্রবর্তী জানান, প্রতিদিন ডাউন ১১টি ও আপ ১১টি আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন এ স্টেশন দিয়ে চলাচল করে, ফলে বিপুল সংখ্যক যাত্রী যাতায়াত করেন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (পথ) শেখ আল আমিন বলেন, ২নং প্ল্যাটফর্মের প্রস্থ কম হওয়ায় সেখানে ওভারব্রিজ নির্মাণের সম্ভাবনা আপাতত নেই। অন্যান্য বিষয় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।