চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে রবিবার সকালে মাউন্ট মাকালু অভিযানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন পর্বতারোহী ডা. বাবর আলী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বিশ্বের পঞ্চম উচ্চতম পর্বত মাউন্ট মাকালু জয় করে দেশের পর্বতারোহণ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছেন বাংলাদেশি পর্বতারোহী বাবর আলী। গত ২ মে বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টা ৪৫ মিনিটে ৮ হাজার ৪৮৫ মিটার উচ্চতার এই দুর্গম শৃঙ্গে পৌঁছে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মাকালুর চূড়ায় উড়ান লাল-সবুজের পতাকা।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে রবিবার সকালে অভিযান পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন ও পতাকা প্রত্যর্পণ অনুষ্ঠানে অভিযানের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন পর্বতারোহী ডা. বাবর আলী।
অনুষ্ঠানে বাবর আলী বলেন, “আগেও কয়েকটি আটহাজারি শৃঙ্গ আরোহণ করেছি, কিন্তু মাকালুর মতো তীব্র ঠান্ডা আর হাড় কাঁপানো বাতাস কোথাও পাইনি। এখানকার আবহাওয়া খুব দ্রুত বদলে যায়। প্রতিটি মুহূর্তই ছিল ভয়ঙ্কর চ্যালেঞ্জের।”
তিনি জানান, মূলত এ বছর তার লক্ষ্য ছিল কারাকোরাম হিমালয়ের নাঙ্গা পর্বত জয় করা। তবে অর্থসংকট ও নানা বাস্তবতার কারণে শেষ মুহূর্তে পরিকল্পনা বদলে মাকালু অভিযানে অংশ নেন তিনি। “নিত্যনতুন চ্যালেঞ্জ নিতে আমি সবসময় প্রস্তুত থাকি। মাকালু টেকনিক্যালি খুব কঠিন একটি পর্বত। এই শৃঙ্গ জয় বাংলাদেশের পর্বতারোহণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে,” বলেন বাবর।
অভিযানের সময় ঘটে যাওয়া হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বাবর জানান, আমেরিকান পর্বতারোহী শেলি জোহানসেন শিখর জয় শেষে ফেরার পথে তুষারধসে প্রাণ হারান। এছাড়া রুশ পর্বতারোহী কন্সট্যান্টিন তুষারক্ষতের কারণে হাত-পায়ের কয়েকটি আঙুল হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, “পর্বত মাঝে মাঝে খুব অন্যায্য আচরণ করে। লাল-সবুজ পতাকা হাতে শিখরে ওঠার আনন্দ যেমন আছে, তেমনি বন্ধুদের হারানোর কষ্টও আছে। এই অভিযানের অনুভূতি তাই আমার জন্য খুবই মিশ্র।”
তিনি বলেন, “আমি চাই ১৪টি আটহাজারি শৃঙ্গের সবগুলোতেই আরোহণ করতে। এখন পর্যন্ত পাঁচটি হয়েছে, বাকি আছে আরও ৯টি। পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে একদিন সেই স্বপ্নও পূরণ হবে।”
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠান ভিজুয়াল নিটওয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ নুর ফয়সাল। এছাড়া অভিযানে সহায়তা করেছে সামুদা স্পেক-কেম লিমিটেড, চন্দ্রবিন্দু প্রকাশন, মাই হেলথ ও রহমান গ্রোসারিজ।
‘গ্রেট ব্ল্যাক ওয়ান’ নামে পরিচিত মাকালু অভিযানের উদ্দেশে গত ৭ এপ্রিল দেশ ছাড়েন বাবর আলী। নেপালের টুমলিংটার হয়ে সেদুয়া গ্রামে পৌঁছে কয়েক ধাপে উচ্চতার সঙ্গে শরীর মানিয়ে নেওয়ার পর ৩০ এপ্রিল শুরু করেন চূড়ান্ত আরোহণ। ১ মে রাতের অন্ধকারে ক্যাম্প-৩ থেকে যাত্রা শুরু করে টানা ১১০০ মিটারের ভয়ঙ্কর খাড়া পথ অতিক্রম করে ২ মে ভোরে পৌঁছে যান মাকালুর চূড়ায়। একই দিন নিরাপদে ফিরে আসেন বেসক্যাম্পে।