বাহার উদ্দিন, পেকুয়া
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬ ১৪:২২ পিএম
আপডেট : ১৭ মে ২০২৬ ১৪:২৭ পিএম
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়নসহ উপজেলাজুড়ে সুপেয় পানির তীব্র সংকট। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়নসহ উপজেলাজুড়ে সুপেয় পানির তীব্র সংকট এখন বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।
গ্রীষ্ম মৌসুমের তীব্র দাবদাহ আর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অস্বাভাবিক নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি ঘরে ঘরে এখন পানির জন্য হাহাকার চলছে। অধিকাংশ নলকূপগুলো থেকে পানি উঠছে না, আর যা ও একটু উঠছে তা অতিরিক্ত লবণাক্ত এবং আয়রনযুক্তÑ যা পানের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। এক কলসি সুপেয় পানির জন্য নারী-পুরুষ, এমনকি শিশুদেরও মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। পেকুয়াবাসীর এই পানির কষ্ট আজ নতুন নয়, তবে এবারের সংকট অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
আরও পড়ুন: সুপেয় পানি নিশ্চিতের দাবিতে মাটির কলস নিয়ে ম্যারাথন |
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পেকুয়া সদর, মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালী, বারবাকিয়া, শিলখালী ও টৈটং ইউনিয়নে গত কয়েক মাস ধরে সুপেয় পানির সংকট তীব্র থেকে তীব্রতর হয়েছে।
শুষ্ক মৌসুমের শুরু থেকেই ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় উপজেলার প্রায় ৮০ শতাংশ সাধারণ নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে।
বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী হওয়ায় উপকূলীয় ইউনিয়ন উজানটিয়া, মগনামার ও রাজাখালীতে গভীর নলকূপগুলোতে আসছে অতিরিক্ত লবণাক্ত পানি।
উপজেলাজুড়ে যেসব পুকুর ও জলাশয়ের পানি ফুটিয়ে মানুষ ব্যবহার করত, তীব্র গরমে সেগুলোও এখন শুকিয়ে কাদামাটিতে পরিণত হয়েছে। তবে অনেক অনেক জলাশয় ভরাট করার কারণে মিঠা পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
পেকুয়া সদরের চৌমুহনী ও আশপাশের এলাকায় দেখা গেছে, দুয়েকটি সরকারিভাবে বসানো গভীর নলকূপে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মানুষের দীর্ঘ লাইন। পানি নিয়ে প্রায়ই ঘটছে ঝগড়া ও হাতাহাতির ঘটনা। অনেকে বাধ্য হয়ে দূরদূরান্ত থেকে ভ্যান বা রিকশায় করে চড়া দামে খাবার পানি কিনে আনছেনÑ যা দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য এক বিশাল আর্থিক বোঝা।
পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুজিবুর রহমান বলেন, সুপেয় পানির এই তীব্র সংকটের কারণে এলাকায় দেখা দিয়েছে নানাবিধ পানিবাহিত রোগ। বিশুদ্ধ পানির অভাবে বাধ্য হয়ে অনেক এলাকার মানুষ দূষিত বা লবণাক্ত পানি পান করছেন। ফলে ঘরে ঘরে ডায়রিয়া, আমাশয়, জন্ডিস এবং চর্মরোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পেকুয়ার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক এফএম সুমন বলেন, অনাবৃষ্টি এবং দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণ হচ্ছে না।
ভুক্তভোগী জনগণের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে পেকুয়ার প্রতিটি ইউনিয়নে গভীর নলকূপ স্থাপন, ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট বসানো এবং ভ্রাম্যমাণ ট্যাংকারের মাধ্যমে পানি সরবরাহ করা হোক। বিশেষ করে মগনামা উজানটিয়া ও রাজাখালীর মতো দুর্গম উপকূলীয় এলাকায় সরকারিভাবে বিশেষ বরাদ্দ প্রয়োজন।
পেকুয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রকৌশলী সালাহ উদ্দিন সোহেল বলেন, পেকুয়ার কিছু এলাকায় ভূতাত্ত্বিক গঠনের কারণে গভীর নলকূপ স্থাপন করেও সফল হওয়া যায় না। তবে পানি সংরক্ষণ এবং পিএসএফ (পন্ড স্যান্ড ফিল্টার) চালুর চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, উপজেলাজুড়ে দেখা যায় যে, বর্তমানে চাষের জমি ও লবণ চাষে পাম্প ব্যবহার করে অতিরিক্ত পানি নষ্ট করা হচ্ছে যার ফলে দ্রুত পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। যদি নদী-নালা, খাল থেকে পানি সংরক্ষণ করে ব্যবহার করা যায় তাহলে পানির স্তর স্থির রাখা সম্ভব হবে।