পাবনার চাটমোহরে খামারি মিনারুল ইসলামের খামারে পালিত ৪০ মণ ওজনের ‘বাহারাম বাদশা’। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে কোরবানির কেনাবেচার প্রস্তুতি।
এরই মধ্যে পাবনার চাটমোহরে আলোচনায় এসেছে বিশাল আকৃতির গরু ‘বাহারাম বাদশা’।
প্রায় ৪০ মণ ওজনের এই গরুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মানুষ।
বিশাল দেহাকৃতি ও রাজকীয় গড়নের কারণে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ।
চাটমোহর উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের ছোট গোয়াখড়া গ্রামের খামারি মো. মিনারুল ইসলামের খামারে লালন-পালন করা হচ্ছে ‘বাহারাম বাদশা’কে।
খামারি সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে দুই লাখ ৯০ হাজার টাকায় গরুটি কেনা হয়। তখন এর ওজন ছিল আনুমানিক ২২ থেকে ২৪ মণ।
নিয়মিত পরিচর্যা, সুষম খাদ্য ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে বর্তমানে গরুটির ওজন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪০ মণে। গরুটির বয়স প্রায় সাড়ে তিন বছর এবং এটি ৬ দাঁত বিশিষ্ট।
খামারি মিনারুল ইসলাম জানান, বিশাল আকার ও আকর্ষণীয় গড়নের কারণে গরুটির নাম রাখা হয়েছে ‘বাহারাম বাদশা’।
তিনি বলেন, প্রতিদিন গরুটিকে ভুট্টা, গমের ছাল, ভুসি, খড় ও কাঁচা ঘাসসহ বিভিন্ন পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে।
মিনারুল ইসলাম আরও বলেন, আমি, আমার স্ত্রী এবং আরও চারজন কর্মচারী মিলে গরুটির পরিচর্যা করেছি। কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে।
গরুটিকে ঘিরে স্থানীয়দের মাঝেও তৈরি হয়েছে উৎসাহ। স্থানীয় বাসিন্দা জমশেদ আলী শেখ বলেন, আমাদের এলাকায় এত বড় গরু সচরাচর দেখা যায় না। বাহারাম বাদশা এখন এলাকার মানুষের গর্ব।
আরেক বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, প্রতি বছর বড় গরু নিয়ে আগ্রহ থাকে। তবে আকার ও গঠনের কারণে বাহারাম বাদশা সবার নজর কাড়ছে।
গরুটি দেখতে আসা দর্শনার্থী আছাদ আলী বলেন, এত বড় গরু সামনে থেকে দেখার অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ। ছবি তুলে পরিবারের সদস্যদেরও দেখিয়েছি।
খামারি মিনারুল ইসলাম জানান, গরুটির দাম চাওয়া হচ্ছে ২৫ লাখ টাকা। তার আশা, আসন্ন কোরবানির হাটে ‘বাহারাম বাদশা’ ভালো দামে বিক্রি হবে।