আসমা আক্তার। ছবি: ভিডিও থেকে
শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় স্বামীর পচা মাংসসহ এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
শহরের উত্তর পালং এর শাবনুর মার্কেট এলাকা থেকে শুক্রবার রাতে তাকে আটক করে পুলিশ।
স্বামীকে হত্যা করে ৩ দিন ধরে ফ্রিজ ও ড্রামে ভরে রেখেছিলেন তিনি।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই নারী নিজেই এই ঘটনা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মরদেহের কয়েকটি অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে চন্দ্রপুর বাজারের গ্রামীন ব্যাংকের পিছনের এলাকায় ভাড়া বাসায় এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহত জিয়া সরদার শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ মাহমুদপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তার স্ত্রী আসমা আক্তার পিরোজপুর জেলার বাসিন্দা।
পালং মডেল থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আট বছর আগে দুজনে বিয়ে করেন। এটি দুজনেরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। সম্প্রতি স্ত্রী আসমার সঙ্গে জিয়া সরদারের কলহের সৃষ্টি হয়। তার জের ধরে ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে জিয়া সরদারকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেন আসমা আক্তার। এরপর মরদেহটি ৬ টুকরো করে হাড়-মাংস আলাদা করে ড্রামে ও ফ্রিজে ভরে রাখেন ৩ দিন।
শুক্রবার রাতে অটোরিকশা ভাড়া করে ড্রাম থেকে মরদেহের একটি অংশ মুলফৎগঞ্জ এলাকায় পদ্মা নদীর তীরে সাদা প্লাস্টিকে মোড়ানো একটি ব্যাগ করে ফেলে দেন আসমা। অন্য একটি অংশ বস্তায় ভরে ফেলে আসেন শরীয়তপুর পৌরসভার আটং এলাকার বৃক্ষতলা এলাকায়। কিছু মাংস শহরের উত্তর পালং এর শাবনুর মার্কেট এলাকায় পুরাতন ভাড়া বাসার এক ভাড়াটিয়ার ফ্রিজে রাখতে যান আসমা। এসময় তীব্র গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে এক পর্যায়ে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে বিষয়টি পুলিশকে জানায় স্থানীয়রা।
পুলিশ ওই নারীকে আটক শেষে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিভিন্ন স্থান থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সাবনুর মর্কেট এলাকার রানু বেগম বলেন, “আসমা আক্তার পচা মাংস ফ্রিজে রাখতে এলে গন্ধ ছড়ায়। এতে আমাদের সন্দেহ হয়। তখন আমরা ৯৯৯ কল করে পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে তার স্বামীর মাংসসহ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।”
অকপটে স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন আসমা আক্তার। তিনি বলেন, “আমার স্বামী প্রায়ই আমাকে মারধর করতো। ১২ মে রাতে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে তাকে মাথায় রড দিয়ে আঘাত করলে সে দরজার সাথে ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। আমি বুঝতে পারিনি এত জোরে আঘাত লাগবে। ওইদিন সারারাত মরদেহ নিয়ে বসে থাকি। পরদিন ছুরি দিয়ে মরদেহ টুকরো টুকরো করে কয়েক জায়গায় ফেলে দেই। কিন্তু এই ঘটনা কীভাবে ঘটে গেল বুঝতে পারিনি।”
নিহতের আত্মীয় শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, “আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালীন ওই নারীকে বিয়ে করেন। ভাই দেশে আসার পর আলাদা একটি জায়গায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। আমার ভাইকে ওই নারী হত্যা করে ড্রামে ভরে মরদেহ ফেলে রেখেছে। পুলিশ ওই নারীকে আটক করেছে। আমি অপরাধীর শাস্তির দাবি জানাই।”
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, “আসমা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে সব কথা স্বীকার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বৃক্ষতলা এলাকার একটি পুকুর থেকে মাথাসহ হাড় উদ্ধার করি। এ ঘটনায় তদন্ত করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”