শিবগঞ্জে উচ্ছেদ অভিযানে দীর্ঘদিন দখলে থাকা সরকারি বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার করেছে প্রশাসন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বগুড়ার শিবগঞ্জে দীর্ঘ চার দশক ধরে দখলে থাকা শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ সরকারি জমি উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করেছে প্রশাসন।
উদ্ধার হওয়া জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে ওই জমিতে মার্কেট ও বসতবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করছিল।
তাদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আজিজুল হকও ছিলেন, যিনি একাই প্রায় ২০ শতক জমি দখলে রেখেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি উপেক্ষা করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে ওই প্রভাবশালী চক্র বছরের পর বছর বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা নিয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া যায়।
উপজেলা প্রশাসন শনিবার সকাল ৮টা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করে। অভিযানে দখলকৃত জমির ওপর নির্মিত অবৈধ মার্কেট ও স্থাপনাগুলো অপসারণ করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিনের এই দখলদারিত্বের অবসানে বিদ্যালয়ের হারানো সম্পদ ফিরে পাওয়ায় শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
উপজেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হলে তা প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নজরে আসে। পরে তিনি দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে তদন্তে সরকারি জমি দখলের সত্যতা পাওয়ার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে বিদ্যালয়ের জমিটি বেদখলে ছিল। তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার পর আজ তা উদ্ধার করা হয়েছে।
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, এটি বিদ্যালয়ের মূল্যবান সম্পদ ছিল যা একটি অসাধু চক্র দখল করে রেখেছিল। প্রশাসনের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আতাউর রহমান বলেন, বহু চেষ্টা করেও আমরা জমি উদ্ধার করতে পারিনি। অবশেষে এটি উদ্ধার হওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ।
তবে এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।