দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে বোরো ধান কাটাই-মারাইয়ের পরই চলছে বেচাবিক্রি। ছবিটি উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের ভিমলপুর খেলার মাঠ থেকে তোলা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে চলতি বোরো মৌসুমে ধান কাটাই-মাড়াই পুরোদমে চললেও উৎপাদন খরচ বাড়া ও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকরা।
সরকারিভাবে ধানের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা হলেও স্থানীয় হাটবাজারে তা বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২৪ থেকে ২৮ টাকায়। ফলে প্রতি বিঘায় বড় অঙ্কের লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিক খরচ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি হলেও সেই তুলনায় ধানের ন্যায্য দাম মিলছে না। এতে অনেক কৃষক ঋণ শোধ নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, চালকল মালিকদের গুদামে আমদানি করা চাল মজুত থাকায় নতুন ধান কেনার আগ্রহ কমে গেছে। ফলে বাজারে ধানের দাম বাড়ছে না, বরং আবহাওয়া খারাপ হলে দাম আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে।
কৃষি বিভাগের হিসাবে, এবার ফলন তুলনামূলক ভালো হলেও কৃষকেরা বলছেন অনিয়মিত আবহাওয়া, রোগবালাই ও উৎপাদন ব্যয়ের কারণে প্রকৃত লাভ হয়নি। অনেকেই প্রতি বিঘায় ২ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত লোকসানের কথা জানান।
এদিকে স্থানীয় একটি বেসরকারি কোম্পানির মিল কর্তৃপক্ষ এখনও ধান সংগ্রহ শুরু না করায় বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে বলে দাবি কৃষকদের। তবে সংশ্লিষ্টরা জানান, আগামী সপ্তাহে ধান কেনা শুরু হতে পারে।
খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক ইলিয়াস হেমব্রম বলেন, চার বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করে প্রতি বিঘায় প্রায় ৩১ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তবে বর্তমান দামে বিক্রি করে খরচই উঠছে না।
একই অভিযোগ করেন আলাদীপুর ও শিবনগর এলাকার একাধিক কৃষক। তারা জানান, ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ধান ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে বর্তমানে মোটা ধান কেজিপ্রতি ২০ থেকে ২১ টাকা এবং চিকন ধান আরও বেশি দামে কেনাবেচা হচ্ছে। তবে মোকামের দর অনুযায়ী দাম না বাড়ায় স্থানীয় বাজারে স্থবিরতা চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, এবার ১৪ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছে এবং গড় ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে। তবে আবহাওয়ার কারণে কৃষকদের দ্রুত ধান ঘরে তুলতে হচ্ছে।