চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬ ১৯:০৯ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৬ ১৯:৩১ পিএম
অবহেলিতদের পাশে দাঁড়ানো ছয় 'চেঞ্জমেকার’ পেলেন আবুল খায়ের গ্রুপের সম্মাননা
নানা প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নিরলস কাজ করে যাওয়া ছয়জন অনন্য সাধারণ মানুষকে 'এম-রাইজ হিরো' সম্মাননা প্রদান করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী আবুল খায়ের গ্রুপ।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে ঢাকার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক জমকালো 'এম-রাইজ গালা নাইট' এ বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে এই রিয়েল লাইফ ‘হিরো’দের জীবনের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, পরিচয় উন্মোচন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। মেগাস্টার শাকিব খান বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। এ সময় আবুল খায়ের গ্রুপের গ্রুপ হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
এম-রাইজের এই উদ্বোধনী আসরে সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন— চট্টগ্রামের প্রযুক্তি উদ্ভাবক জয় বড়ুয়া লাবলু, যিনি সাশ্রয়ী মূল্যের বায়োনিক হাত তৈরি করে কৃত্রিম অঙ্গের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছেন; ‘মা-বাবা ফাউন্ডেশন’-এর মাধ্যমে অবহেলিত বয়োবৃদ্ধ ও অনাথ শিশুদের আশ্রয় দেওয়া কক্সবাজারের মো. রস্তম আলী এবং দীর্ঘ দিন ধরে পথপ্রাণী উদ্ধার ও চিকিৎসার কাজ করে যাওয়া ঢাকার প্রাণী কল্যাণকর্মী মো. আব্দুল কাইয়ুম।
এছাড়া, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাদানে কাজ করা চট্টগ্রামের ‘এক টাকায় শিক্ষা’ উদ্যোগের মো. রিজওয়ান; সমুদ্র উপকূলীয় নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সিউইড বা সামুদ্রিক শৈবাল চাষে ভূমিকা রাখায় কক্সবাজারের মারিয়াম এবং শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কাজ করা ‘উচ্ছ্বাস’ উদ্যোগের প্রসেনজিৎ কুমার সাহাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।
পুরস্কার তুলে দেওয়ার সময় অভিনেতা শাকিব খান বলেন, বাস্তব জীবনের এই হিরোদের সম্মানিত করতে পেরে আমি গর্বিত। পর্দার আড়ালে যারা সমাজের জন্য নিঃশব্দে কাজ করে যাচ্ছেন, তাদের এই অবদান পুরো জাতির জন্য অনুপ্রেরণা। এম-রাইজের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো লাইমলাইটের বাইরে থাকা সেই মানুষদের সামনে নিয়ে আসে যারা বাস্তব পরিবর্তন তৈরি করেন।
আবুল খায়ের গ্রুপের গ্রুপ হেড অব কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড লিগ্যাল শেখ শাবাব আহমেদ বলেন, অতি সাধারণ এক সূচনা থেকে আজ আবুল খায়ের গ্রুপ দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়িক সাফল্যের বাইরেও এই গ্রুপ সবসময় সমাজ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে এসেছে। সেই সামাজিক দায়বদ্ধতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ‘এম-রাইজ’ উদ্যোগের জন্ম।
আয়োজকরা জানান, এটি কেবল একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান নয়, বরং সারা দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন সৃষ্টিকারী মানুষদের গল্প ছড়িয়ে দেওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি মাধ্যম। সমাজে অবদান রাখা ব্যক্তিদের তুলে ধরার এই ধারাবাহিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে আবুল খায়ের গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।