ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গা অংশে নির্মাণকাজ চলমান থাকায় ঈদযাত্রায় যানজটের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। প্রতীকী ছবি
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশের অন্যতম ব্যস্ত ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত এবারও যানজট ও ভোগান্তির শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সড়কের এই অংশে চলমান চার লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ এখনও সম্পূর্ণ শেষ না হওয়ায় যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরিবহন চালক ও যাত্রীরা।
মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় ওই অংশে যাতায়াত তুলনামূলকভাবে নির্বিঘ্ন হলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার অংশে ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস ও সার্ভিস লেন নির্মাণ কাজ এখনও চলমান রয়েছে।
এতে ঈদযাত্রায় এ অংশে যানজটের ঝুঁকি বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবহন চালকদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও পর্যাপ্ত তদারকির অভাবে কাজের গতি ধীর হয়ে পড়েছে। এতে প্রতিবছরই ঈদ মৌসুমে এই মহাসড়কে যানজট তৈরি হয়।
তাদের মতে, কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা গেলে ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
নাবিল পরিবহনের চালক আলী হোসেন বলেন, মহাসড়কে পুলিশের সঠিক তদারকি জরুরি। এবার এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত কাজ চলমান আছে, তবে প্রায় প্রতি বছরই এখানে যানজটে পড়তে হয়। সঠিক দায়িত্ব পালন করলে যানজট কমবে।
অন্যদিকে যাত্রীরাও ভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও নির্বিঘ্ন যাত্রার দাবি জানিয়েছেন।
দিনাজপুরের পার্বতীপুরের যাত্রী শমসের মিয়া বলেন, যানজট নিরসনে পুলিশের সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন জরুরি। পাশাপাশি ভাড়া যেন না বাড়ে, সে বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি থাকা উচিত।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, কাজের বড় অংশ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক রবিউল আওয়াল বলেন, চার লেন প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের প্রায় ৫০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
ঈদযাত্রায় ফোর লেন সড়ক কিছু অংশে উন্মুক্ত রাখা হবে, ফলে যানজট হবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদে সেতুর দুই প্রান্তে ৯টি করে মোট ১৮টি টোল বুথ চালু থাকবে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা বুথ থাকবে, যাতে যানবাহন দ্রুত পারাপার নিশ্চিত করা যায়।
এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শরীফ বলেন, ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানজটের আশঙ্কা নেই। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশেষ নজরদারি থাকবে।
পাশাপাশি চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কের পাশে গরুর হাট বসার কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সব মিলিয়ে এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পের অসম্পূর্ণ কাজের কারণে আসন্ন কোরবানির ঈদযাত্রায় যানজট ও দুর্ভোগের শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
প্রশাসনের উদ্যোগ থাকলেও বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। তবে প্রতিবছরের মতো এবার যেন যানজটের কবলে পড়তে না হয় এমনটাই প্রত্যাশা করছেন যাত্রী ও চালকরা।