শ্যামনগর ও সাতক্ষীরা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬ ১২:২৩ পিএম
আপডেট : ১৫ মে ২০২৬ ১৫:২৯ পিএম
সুন্দরবনের মাঝ দিয়ে বয়ে চলা চুনকুড়ি নদী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
সাতক্ষীরা জেলার পশ্চিম সুন্দরবনে আবারও মুক্তিপণের দাবিতে আটজন বনজীবীকে জিম্মি করেছে জলদস্যুরা।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদের খাল, গুবদের খাল ও ধ্যানোখালির চর এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার ১৪ সন্ধ্যায় তাদের অপহরণ করা হয়।
অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি করেছে ‘নানাভাই/ডন’ ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জিম্মি বনজীবীদের কয়েকজন সহযোগী ও তাদের মহাজনরা জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদে খালের মুখ, গুবদে খালের মুখ, ধ্যানোখালির চর এলাকা থেকে তাদের প্রতিটি নৌকা থেকে একজন করে তুলে নেওয়া হয়। পরে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
তাদের দাবি, অপহৃত প্রত্যেক বনজীবীকে মুক্ত করতে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। বনদস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করছে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।
অপহৃত বনজীবীরা হলেন মুন্সিগঞ্জের মীরগাং এলাকার বারি তরফদারের ছেলে নজরুল তরফদার (৪৫), একই এলাকার আমির আলী গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান (৩৫), ছোট ভেটখালী এলাকার ছবেদ আলী মোড়লের ছেলে আব্দুল হামিদ মোড়ল (৫০), আটুলিয়া ইউনিয়নের ভড়ভড়িয়া এলাকার আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে আব্দুল আলিম (৪০), একই এলাকার ইব্রাহিম গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪৮), শামসুর গাজীর ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৪২), খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান।
বনজীবীদের মহাজনদের অভিযোগ, এর আগেও সুন্দরবনে অপহৃত জেলে ও মৌয়ালদের মুক্ত করতে একই নম্বরে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করে জিম্মি বনজীবীদের মুক্ত করেছেন। এমনকি মধু আহরণ মৌসুম শুরু হওয়ার আগে এই একই নাম্বারে অগ্রিম চাঁদা পরিশোধ করে মৌয়ালদের সুন্দরবনে মধু আহরণ করতে যেতে হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মহাজনরা।
এ ঘটনায় পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলছেন, “বনজীবী অপহরণের বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাইনি। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে”।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “সুন্দরবনে বনজীবী অপহরণের বিষয়ে এখনো কোনো ভুক্তভোগী পরিবার বা তাদের স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।
এর আগে গত ৪ ও ৫ মে দুই দিনে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’র পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তারা ৭ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে ছাড়া পায়।