নিহত আনাস। ফাইল ছবি
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় ধনু নদীতে গরুকে গোসল করাতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর আনাস (১৪) নামে এক কিশোরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
উপজেলার এনসহিলা গ্রাম সংলগ্ন ধনু নদীর তীরে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টার দিকে মরদেহটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহত আনাস উপজেলার কুর্শি গ্রামের বড়হাটি এলাকার মানিক মিয়ার একমাত্র ছেলে। তার মৃত্যুতে পরিবারে চলছে আহাজারি আর শোকের মাতম।
স্বজনরা জানান, মঙ্গলবার দুপুরে বাড়ির গরুকে গোসল করাতে ধনু নদীতে যায় আনাস। একপর্যায়ে নদীর পানিতে নামার পর সে স্রোতের মধ্যে পড়ে যায়। সাঁতার না জানায় মুহূর্তের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে যায় আনাস। সঙ্গে থাকা অন্যরা চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। পরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা দীর্ঘ সময় নদীতে তল্লাশি চালালেও তার কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা নদীর তীরে অপেক্ষা করছিলেন। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় দুই দিন ধরে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অবশেষে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার ভোরে নদীর তীরে ভাসমান অবস্থায় আনাসের মরদেহ উদ্ধার হলে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ধনু নদীতে স্রোত বেশি থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমের শুরুতে নদীর পানি ও স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশু-কিশোরদের নদীতে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তারপরও গ্রামের অনেকেই প্রতিদিন গরু গোসল করাতে বা বিভিন্ন কাজে নদীতে যান।
বাদলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আদিল উজ জামান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “ছেলেটি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে মরদেহ উদ্ধার পর্যন্ত আমি পরিবারটির পাশে ছিলাম। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। পরিবারের একমাত্র ছেলে সন্তানকে হারিয়ে তারা ভেঙে পড়েছে। এমন মৃত্যু সত্যিই খুব কষ্টের।”
তিনি আরও বলেন, নদী এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। সাঁতার না জানা শিশু-কিশোরদের নদীতে একা না পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে আনাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়। প্রতিবেশী ও স্বজনরা বাড়িতে ভিড় করেন। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন তার মা। পরিবারের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।