তাহিরপুরে এক শিক্ষিকাকে অনৈতিক প্রস্তাবের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সোলেমান মিয়ার বিরুদ্ধে। ছবি: বাংলাদেশ জাতীয় তথ্য বাতায়ন
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় এক সহকারী শিক্ষিকাকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা শিক্ষা অফিসারের বিরুদ্ধে।
এক্ষেত্রে সোলেমান মিয়া নামে ওই কর্মর্কতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় গত ৯ মে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই শিক্ষিকা।
অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষক সমাজ ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগকারী শিক্ষিকা মোছা. লুৎফা আক্তার উপজেলার বালিজুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সোলেমান মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ম্যাসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কল দিয়ে অশালীন আচরণ ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
ওইসব প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা থেকে তাকে বঞ্চিত করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।
লুৎফা আক্তার অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, এসব ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন এবং কর্মস্থলে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন।
একজন নারী শিক্ষক হিসেবে বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষিকা দাবি করেন, ওই শিক্ষা কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে তাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছেন।
যারা এসব অনৈতিক কর্মকাণ্ডে সাড়া দেন না, তাদের সরকারি কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত করা হয় বলেও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, যেসব বিদ্যালয়ে সুন্দরী শিক্ষিকা রয়েছেন, সেসব বিদ্যালয়েই শিক্ষা কর্মকর্তা বেশি পরিদর্শনে যান এবং তাদের সঙ্গে একান্তে সময় কাটানোর চেষ্টা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রধান শিক্ষক বলেন, কয়েক দিন আগে নারীসংক্রান্ত একটি ঘটনায় জেলা শহরেও ওই কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছিল। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হওয়ায় অনেকে ভয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না বলেও জানান তিনি।
আরেক শিক্ষক অভিযোগ করেন, সীমান্তবর্তী একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এক সহকারী শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি স্ক্যান্ডাল ছড়িয়ে পড়লেও শিক্ষা কর্মকর্তা কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং তিনি ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দাওয়াতে অংশ নেন।
তবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সোলেমান মিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
তিনি বলেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতেই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তার বিরুদ্ধে কুৎসা রটানো হচ্ছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহন লাল দাস বলেন, ঘটনাটি তার জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মেহিদী হাসান মানিক বলেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহরুখ আলম শান্তনু ছুটি থেকে ফিরলে অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে
তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।