লালমনিরহাট সীমান্ত
লালমনিরহাট প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬ ১০:২২ এএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৬ ১২:০৪ পিএম
লালমনিরহাটের আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশি যুবক মো. খাদেমুল। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
লালমনিরহাটের হাতিবান্ধা উপজেলায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ছররা গুলিতে মো. খাদেমুল (২৫) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার আমঝোল সীমান্তে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত খাদেমুল উপজেলার উত্তর আমঝোল গ্রামের বাসিন্দা এবং আমজাদ হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় ও সীমান্ত সূত্র জানায়, বিজিবির লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের বনচৌকি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ ৯০৫/৬-এস সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
সূত্রগুলো বলছে, ভারতের প্রায় ১৫০ গজ অভ্যন্তরে কয়েকজন চোরাকারবারি কাঁটাতারের বেড়ার কাছে গেলে ভারতের ৭৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের পাগলামারী ক্যাম্পের টহল দল তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে।
এ সময় খাদেমুল মুখ, বুক ও মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তিনি ফিরে আসতে সক্ষম হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ভর্তি করেন।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র। পরে নিহতের মরদেহ বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।
সীমান্ত এলাকায় সম্প্রতি উত্তেজনা বেড়েছে উল্লেখ করে নিহতের প্রতিবেশী লিটন বলেন, খাদেমুল খুবই শান্ত স্বভাবের ছেলে ছিলেন।
চোরাকারবারির উদ্দেশ্যে ভারতের প্রায় ১৫০ গজ অভ্যন্তরে কয়েকজন প্রবেশ করার কথা স্থানীয় সূত্র জানালেও নিহতের মা মা লাইলী বেগম দাবি করেন, তার ছেলে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সীমান্ত এলাকায় গেলে বিএসএফ গুলি করে হত্যা করেছে।
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহতের মরদেহ তার বাড়িতে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিজিবির পক্ষ থেকে এখনও বিএসএফের সঙ্গে কোনো পতাকা বৈঠকের আহ্বান জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতের শরীরের আঘাতের ধরন পর্যালোচনা করে একাধিক সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মেহেদী ইমাম জানান, বিষয়টি নিয়ে কোম্পানি কমান্ডার ও ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে।