নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬ ১০:০১ এএম
দিপালী সিকদার। ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ট্রলি নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক রোগীর অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
স্বজনদের দাবি, অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন করার দুই মিনিটের মধ্যেই ওই রোগীর মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের মেডিসিন ইউনিটে বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কর্মচারী ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে আনসার সদস্যরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
মারা যাওয়া দিপালী সিকদার (৪০) বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব খরকি গ্রামের গ্রামের শংকর শিকদারের স্ত্রী।
দিপালীর ভাই মিলন হালদার জানান, বুধবার বিকাল ৩টার দিকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে দিপালীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের নির্দেশনায় তাকে টানা দুই ঘণ্টা অক্সিজেন দেওয়ার কথা ছিল।
তবে শয্যা সংকট ও অক্সিজেন পয়েন্টের অব্যবস্থাপনার কারণে একটি ট্রলিতে রেখেই তাকে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছিল বলে জানান তিনি।
মিলন হালদারের ভাষ্য, ওই সময় মেডিসিন ইউনিট-১–এর কর্মচারী সোহেল নামে একজন সেখানে আসেন। পাশের এক রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ট্রলি দেওয়ার জন্য ২০০ টাকা নেওয়ার পর তিনি দিপালীর অক্সিজেনের লাইন খুলে ট্রলি নিয়ে যান।
তিনি দাবি করেন, পরিবারের সদস্যরা অনুরোধ করলেও সোহেল তা শোনেননি। অক্সিজেন খোলার প্রায় দুই মিনিটের মধ্যেই দিপালীর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ স্বজনরা অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেলের ওপর চড়াও হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এ সময় তাকে মারধর করা হলে অন্য কর্মচারীরা এগিয়ে এসে অভিযুক্ত সোহেলের পক্ষ নিলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়।
হঠাৎ উত্তেজনায় হাসপাতালের থাকা অন্যান্য রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে খবর পেয়ে আনসার সদস্যরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
দায়িত্বরত আনসার সদস্য নিঠুর রঞ্জন বলেন, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনরা উত্তেজিত হয়ে সোহেলকে মারধর করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই হস্তক্ষেপ করে তাকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, মারা যাওয়া রোগী আগে থেকেই গুরুতর শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন।
ঘটনার পর অভিযুক্ত কর্মচারী সোহেল হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
দিপালীর পরিবার ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে হাসপাতাল পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে বলেও জানিয়েছে।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর বলেন, তিনি এখনও বিস্তারিত জানেন না। বিষয়টি জেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।