হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ ২১:০৯ পিএম
পাহাড়ী ঢলে বাঁধ উপচে ঢুকছে পানি। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দুই ইউনিয়নের ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
উপজেলার ভূবনকুড়া ও গাজিরভিটা ইউনিয়নে বুধবার সকালে দুটি নদীর বাঁধ ভেঙে গেলে দ্রুত পানি ঢুকে পড়ে লোকালয়ে। এতে পানির নিচে তলিয়ে যায় পাকা বোরো ধান। ডুবে গেছে সবজি খেত ও মাছের ঘেরও। দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
স্থানীয়রা ভাষ্য, ভারতের মেঘালয় সীমান্তঘেঁষা এ অঞ্চলে মঙ্গলবার রাত থেকে টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। একপর্যায়ে অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধ ভেঙে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো প্লাবিত হয়।
প্লাবিত গ্রামের মধ্যে রয়েছে ভুবনকুড়া ইউনিয়নের মাজরাকুড়া, কুমারগাতী, আচকীপাড়া, তেলীখালী, কড়ইতলী, মহিষলেটি, গোবরাকুড়া, কালিয়ানিকান্দা, মনিকুড়া, রাংরাপাড়া, বুড়াঘাট, বোয়ালমারা, ডুমনীকুড়া, কাতলমারী, সূর্যপুর, সুমনিয়াপাড়া, মহাজনীকান্দাসহ অন্তত ২০টি গ্রাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক এলাকার বাড়িঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। নিচু এলাকার মানুষ প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।
বোয়ালমারা গ্রামের কৃষক আব্দুস ছালাম বলেন, “কয়েকদিন আগেই ঢলে বাদাম নষ্ট হয়েছে। এবার ধানও পানির নিচে। স্থায়ী বাঁধ না হলে কৃষকরা আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না”।
আরেক কৃষক কামাল উদ্দিন বলেন, “আমরা স্থায়ী বাঁধ চাই। নদীর পাড়ের মানুষের প্রয়োজন স্থায়ী বাধ”।
আচকিপাড়া এলাকার তানভীর বলেন, “টানা বৃষ্টিতে ও পাহাড়ি ঢলে ফসলী জমি ও ঘর বাড়িতে পানি উঠে গেছে। যদি আবার বৃষ্টি না হয় তবে আশা করি পানি দ্রুত নেমে যাবে”।
হালুয়াঘাট দর্পণ পরিষদের পরিচালক মাহমুদ আব্দুল্লাহ বলেন, “পাহাড়ি ঢলের এ দুর্ভোগের মূল কারণ উজানে অতিবৃষ্টি, নদী-খাল ভরাট, অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং দুর্বল নদী ব্যবস্থাপনা”।
দ্রুত নদী ও খাল সংস্কার, টেকসই বাঁধ নির্মাণ এবং আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার দাবি জানান তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, “উপজেলায় ২২ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ৭০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে”।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফয়সাল আহমেদ বলেন, “প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পাহাড়ি নদী হওয়ায় পানি স্থায়ী হয়ে উঠে না। কিছু কাঁচা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি পুরোপুরি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে”।