প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ ২০:৫৫ পিএম
তামাকপণ্যের উপর কার্যকর করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে বুধবার সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে এক সেমিনার আয়োজন করা হয়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের তুলনায় তামাকপণ্য এখনও অনেক সস্তা বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ।
তামাকপণ্যের উপর কার্যকর করারোপ ও মূল্য বৃদ্ধির দাবিতে বুধবার সকালে সিরডাপ মিলনায়তনে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসেবে, ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে চিনি, আলু, আটা, ডিম, সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের দাম ২৭ থেকে ৮৯ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, অথচ একই সময়ে বিভিন্ন স্তরের সিগারেটের দাম বেড়েছে মাত্র ৬ থেকে ১৫ শতাংশ। ফলে তামাকপণ্য আরও সহজলভ্য হয়ে উঠছে, ধূমপানের প্রবণতা বাড়ছে”।
স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে তামাকপণ্যের মূল্য বৃদ্ধি অবশ্যই মূল্যস্ফীতি ও মানুষের আয় বৃদ্ধির চেয়েও বেশি হতে হবে বলেও জানান তিনি।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রথম সচিব (ভ্যাট মনিটরিং ও আইটি) নাহিদ নওশাদ মুকুল।
তিনি বলেন, “তামাক পণ্যের বর্তমান কর কাঠামোর কারণে সরকার বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের সুযোগ হারাচ্ছে। এই বিশাল অর্থ দিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব”।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইন্সটিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল। তিনি বলেন, “বাজারে বিক্রিত সিগারেটের প্রায় ৯০ শতাংশই নিম্ন ও মধ্যম স্তরের, যা সহজলভ্য হওয়ায় যুবসমাজ ও নিম্ন আয়ের মানুষকে দ্রুত আসক্ত করে তুলছে”।
আসন্ন অর্থবছরে তামাকপণ্যে কার্যকর করারোপের মাধ্যমে দাম বৃদ্ধি করে নিম্ন ও মধ্যম স্তরকে একত্র করে প্রতি ১০ শলাকার সিগারেটের প্যাকেটের সর্বনিম্ন দাম ১০০ টাকা, উচ্চ স্তরে ১৫০ টাকা ও অতি উচ্চ স্তরে ২০০ টাকা নির্ধারনের দাবি জানান তিনি।
পাশাপাশি সকল স্তরে ৬৭% সম্পূরক শুল্ক বহাল রেখে প্রতি প্যাকেটে ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপ করা গেলে ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজারের বেশি তরুণ জনগোষ্ঠীর অকালমৃত্যু রোধ করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতারউজ-জামান, সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডব়পের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও এএইচএম নোমান, সমাপনী বক্তব্য রাখেন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন এবং সঞ্চালনা করেন উপ-নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান। আরও উপস্থিত ছিলেন বিসিআইসির সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান, ডব়্প তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রতিনিধি জেবা আফরোজা।