রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ ১৪:১৭ পিএম
রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পাশে ময়লার ভাগাড়। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পাশে অপরিকল্পিতভাবে ফেলা হচ্ছে হাট বাজার ও বাসা বাড়ির বর্জ্য। এতে সেখানে ময়লার ভাগারে পরিণত হয়েছে। দূষিত হচ্ছে নদী, বিপর্যয়ে পড়ছে পরিবেশ। নদী দিয়ে পারাপার হতে গিয়ে এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন মানুষ। এই ভয়াবহ পচা দুর্গন্ধে পাশের পৌর পার্কে আসছে না দর্শনার্থী।
জানা গেছে, রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন বাজার এলাকাটি অতি গুরুত্বপূর্ণ। এই কাঞ্চন এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে হাটবাজার দোকানপাট এবং আবাসিক এলাকা গড়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মানুষের যাতায়াত কাঞ্চন বাজারে। আর এই কাঞ্চন বাজারে যাতায়াত করতে শীতলক্ষ্যা নদী পারাপার হতে হয়।
কাঞ্চন পৌরসভায় ময়লা আবর্জনা ফেলার নির্ধারিত জায়গা না থাকায় কাঞ্চন বাজার সংলগ্ন শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে, নৌকার ঘাট ও পৌর পার্কের পাশেই অপরিকল্পিতভাবে ফেলা হচ্ছে বাজার এবং বাসাবাড়ির বর্জ্য। এতে ওই স্থানটিতে ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।
এই ময়লার দুর্গন্ধে পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অসুস্থ হয়ে পড়ছে নৌকা ও ট্রলার চালক থেকে শুরু করে চলাচলরত এলাকাবাসী। ৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের যোগাযোগের একটি মাধ্যম হচ্ছে ট্রলার বা নৌকা দিয়ে পারাপার। স্কুলের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮ হাজারের অধিক। এই ময়লার দুর্গন্ধে প্রায় অসুস্থ হয়ে পড়ে শিক্ষার্থীরা। কাঁচা বাজারে এই ময়লা থেকে তৈরি হওয়া মশা মাছির জীবাণু শাকসবজি ও মাছ মাংসে মিশছে। এগুলো খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন স্থানীয়রা। বাজার করতে আসা লোকজন ময়লার দুর্গন্ধের জন্য পার্কে বসতে পারে না। ময়লা নদীতে পড়ে দূষিত হচ্ছে পানি। পাওয়া যাচ্ছে না মাছ। নৌকা ঘাটের এই বিষাক্ত পানিতে কেউ গোসল করতে পারছে না। দূষিত পানির কারণে আক্রান্ত হচ্ছে চর্ম ডায়রিয়া আমাশয় জ্বর ইত্যাদি বিভিন্ন রোগে।
কাঞ্চন বাজারে আসা হেকমত আলী বলেন, ঐতিহ্যবাহী কাঞ্চন বাজারে বাপ দাদার মতো আমরাও বাজার করি। নদী পারাপার হতে গিয়ে পচা ও দুর্গন্ধে এখন আর বাজারে আসতে মন চায় না। ময়লার ভাগাড়ে পরিবেশ হুমকির মুখে পড়েছে। নদীর পানিতে পোকা ধরে গেছে এই ময়লা থেকে। এগুলো প্রশাসন কি দেখে না?।
ব্যবসায়ীরা জানান, ময়লা ফেলানোর জন্য নির্দিষ্ট কোনো জায়গা না থাকায় বাসা বাড়ি এবং বাজারের বর্জ্য নদীর তীরে ফেলা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট জায়গা করে দিলে এই দূষণ হতো না।
পথচারী ও নৌকা চালকরা জানান, নদীর পাশে সকল ময়লা ডাম্পিং করে ময়লার ভাগার তৈরি করা হয়েছে। ময়লা ও বর্জ্য থেকে আসা দুর্গন্ধে অসুস্থ হয়ে পড়ছে সকলে। পৌরসভাকে নিয়মিত ট্যাক্স পরিশোধ করার পরেও ময়লা ফেলার ব্যবস্থা করে দেয়নি। ময়লার জন্য নৌকা দিয়ে যাতায়াত করতে পারছি না। অনেক দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে তাই দ্রুত এর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
শীতলক্ষা নদী রক্ষা এবং পচা ও দুর্গন্ধ থেকে স্থানীয়দের বাঁচাতে দ্রুত নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
কাঞ্চন পৌর প্রশাসক (সহকারি কমিশনার ভূমি) মোহাম্মদ মারজানুর রহমান জানান, কাঞ্চন পৌর ময়লা ফেলার জন্য কোনো স্টেশন বা গ্রাউন্ড নেই। এটি একটি বড় ধরনের দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। আমরা একটি নির্দিষ্ট জায়গা ঠিক করেছি। স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলাপ করে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলার ব্যবস্থা করব।
রূপগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার আইভি ফেরদৌস বলেন, ময়লা আবর্জনা থেকে নানা ধরনের রোগের সৃষ্টি হয়। নানা ধরনের ভাইরাসজনিত রোগ বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে মানুষের ভেতরে প্রবেশ করছে। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট না করে নির্দিষ্ট একটি স্থানে ফেলা প্রয়োজন। তাহলে জনবসতিপূর্ণ এলাকার পরিবেশ সুন্দর এবং ভালো থাকবে।