চাটমোহর (পাবনা) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬ ১২:৩৯ পিএম
আপডেট : ১৩ মে ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম
চাটমোহরের মল্লিকপুরে ক্যানসারে আক্রান্ত মামুনুর রশীদ, পাশে কান্নায় ভেঙে পড়া মা মরিয়ম খাতুন। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
পাবনার চাটমোহর উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘর। সেই ঘরের বারান্দায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন মামুনুর রশীদ (৪০)।
কয়েক মাস আগেও দিনমজুরি করে সংসার চালানো এই যুবক এখন ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী।
গলার বাম পাশে ভয়াবহ আকার ধারণ করা টিউমার থেকে রক্ত ও পুঁজ বের হচ্ছে, অসহনীয় যন্ত্রণায় কাতর তিনি। পাশে বসে অঝোরে কাঁদছেন মা মরিয়ম খাতুন।
চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের মল্লিকপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম ও মরিয়ম খাতুন দম্পতির একমাত্র সন্তান মামুন।
পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। ১৪ মাস আগে গলায় টিউমার ধরা পড়ে, শুরুতে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়া হলেও তা ধীরে ধীরে ক্যানসারে রূপ নেয়।
চিকিৎসার জন্য প্রথমদিকে নিজেদের কৃষি জমি বিক্রি করা হয় এবং বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া হয়।
এরপর ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসকরা কেমোথেরাপি ও অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন, যার জন্য প্রয়োজন ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা।
কিন্তু দরিদ্র এই পরিবারের পক্ষে এত অর্থ জোগাড় করা সম্ভব হয়নি। ফলে চিকিৎসা বন্ধ হয়ে যায়। এখন বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখোমুখি মামুন।
সরেজমিনে বুধবার দেখা যায়, জরাজীর্ণ ঘরের বারান্দায় শুয়ে আছেন তিনি। গলার ক্ষতস্থান ফুলে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। অসুস্থতার কারণে কথা বলতে কষ্ট হচ্ছে, ফ্যালফ্যাল করে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন, চোখ বেয়ে নেমে আসছে অশ্রু।
ছেলের এমন অবস্থা দেখে মা মরিয়ম খাতুন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
তিনি বলেন, “আল্লাহ আমার আর কত পরীক্ষা নেবেন! টাকার অভাবে ছেলেকে চিকিৎসা করাতে পারছি না। চিকিৎসা না হলে আমার ছেলে মারা যাবে।
“মা-বাবার আগে ছেলের মৃত্যু হবে, এটা আমরা কীভাবে সহ্য করব? আমার বুকের ধন মামুনকে বাঁচাতে সবাই এগিয়ে আসুন।”
স্বামীকে হারানোর শঙ্কায় দিন কাটছে স্ত্রী খাদিজা খাতুনেরও। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ায় মানবেতর জীবনযাপন করছে পরিবারটি।
এ বিষয়ে চাটমোহর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুসা নাসের চৌধুরী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত মর্মান্তিক। উপজেলা সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি সহায়তায় পুরো চিকিৎসা ব্যয় বহন সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে।
মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা মামুনকে বাঁচাতে এখন সমাজের সহৃদয় ও বিত্তবানদের সহায়তাই একমাত্র ভরসা।