প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬ ১৯:৪৮ পিএম
আপডেট : ১২ মে ২০২৬ ২১:২৮ পিএম
মেঘনায় ‘সন্ত্রাসী’ হামলা ও অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে কথা বলেন ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। ছবি: ফেসবুক
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনকারী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, অপরাধী যে দল বা মতেরই হোক না কেন, তাদের কোনো ছাড় নেই। এদের বিরুদ্ধে দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।
মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের মৈশারচর গ্রামে সম্প্রতি ‘সন্ত্রাসী’ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ও অগ্নিসংযোগে ভস্মীভূত ঘরবাড়ি পরিদর্শনকালে মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন। ড. মারুফ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসী ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সমবেদনা জানিয়ে ড. মারুফ বলেন, মৈশারচর গ্রামের এই নারকীয় হামলার বীভৎস দৃশ্য দেখেছি। যা এতটাই নির্মম, যেখানে মানবিক মূল্যবোধ ভূলুণ্ঠিত। অপরাধী যেই হোক, তার কোনো ছাড় নেই। সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী সন্ত্রাসীদের দমন করতে বর্তমান সরকারের নীতিগত অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’।
নিরীহ মানুষের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। জনমনে ভীতি সঞ্চার করার যে কোনো অপচেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। শাস্তি তাকে পেতেই হবে বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গা ইউনিয়ন একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল। তবে নান্দনিক নৈসর্গিক সৌন্দর্য বিদ্যমান। যা খুবই উপভোগ্য এবং গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গম যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকার মানুষ অবহেলিত। নানা বঞ্চনা ও দুর্ভোগের শিকার। সেতু নির্মাণের মাধ্যমে ইতোমধ্যে রামপ্রসাদের চর ও বড়াইকান্দি গ্রামকে মেঘনা উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। পর্যায়ক্রমে চালিভাঙ্গা, নলচর, মৈশারচরসহ আশপাশের এলাকায় রাস্তা ও সেতু নির্মাণ করে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। যাতে এই অঞ্চলের মানুষও সমান উন্নয়নের সুবিধা পায়।
তিনি বলেন, দ্বীপ অঞ্চল চালিভাঙ্গা ইউনিয়নে মাদক, মেঘনা নদীতে চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনের মতো অপরাধ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। যারা এসব অপকর্মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
ড.খন্দকার মারুফ বলেন, চালিভাঙ্গা ইউনিয়নটি যেহেতু নদীবেষ্টিত একটি সুন্দর দ্বীপাঞ্চল, তাই এখানে পর্যটনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। এই এলাকাকে পর্যটন হাব হিসেবে গড়ে তোলা যায় কি না, সে বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে এলাকায় পর্যটনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, সবার সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় চালিভাঙ্গা ইউনিয়নকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উন্নত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
এই সময় মেঘনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.শহীদুল ইসলাম, মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজউদ্দিন লন্ডনি, সদস্য সচিব এমএম মিজানুর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক দিলারা শিরীন, অধ্যাপক শহীদুল্লাহ্, আতাউর রহমান ভূঁইয়া, আবদুল গাফফার, আবু ইউসুফ নয়ন ও জহিরুল ইসলামসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।