× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

খুলনার প্রথম উড়ালসেতু

স্বস্তির স্বপ্নে নতুন যানজটের শঙ্কা

মাশরুর মুর্শেদ, খুলনা

প্রকাশ : ১২ মে ২০২৬ ১০:৩০ এএম

আপডেট : ১২ মে ২০২৬ ১০:৩৩ এএম

খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় নির্মাণাধীন উড়ালসেতুর একাংশ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

খুলনা মহানগরীর নিরালা আবাসিক এলাকায় নির্মাণাধীন উড়ালসেতুর একাংশ। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ

খুলনা মহানগরীতে প্রথমবারের মতো নির্মিত হচ্ছে উড়ালসেতু। নিরালা আবাসিক এলাকা থেকে সিটি বাইপাস পর্যন্ত বিস্তৃত নির্মাণাধীন উড়ালসড়ক এখন নগরবাসীর আলোচনার কেন্দ্রে। ৭১৫ কোটি টাকা ব্যয়ের এই প্রকল্পকে ঘিরে যেমন তৈরি হয়েছে উন্নয়নের আশাবাদ, তেমনি উঠেছে নকশাগত ত্রুটি, ব্যয় বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ যানজট নিয়ে নানা প্রশ্ন।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ) বাস্তবায়ন করছে ‘থ্রি-লিংক রোড’ প্রকল্প। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হচ্ছে নিরালা আবাসিক এলাকা থেকে সিটি বাইপাস পর্যন্ত দ্রুত সংযোগ স্থাপন, যাতে ভারী যানবাহন শহরের কেন্দ্রীয় সড়ক এড়িয়ে চলতে পারে। প্রকল্পের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেনের সড়ক, একটি ৩০০ মিটার দীর্ঘ উড়ালসেতু এবং তিনটি সংযোগ সড়ক।

সরেজমিন দেখা যায়, উড়ালসেতুর বিশাল কংক্রিটের পিলার ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে। কোথাও কোথাও ঢালাইয়ের কাজ শেষ, আবার কিছু অংশে শ্রমিকরা ব্যস্ত রড বাঁধাই ও সংযোগ কাঠামো তৈরিতে। প্রকল্প পরিচালক মোরতুজা আল মামুন জানান, উড়ালসেতুর প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে মূল সড়কের কাজ সম্পন্ন হয়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ। তিনি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিভিন্ন কারণে কাজ কিছু সময় বন্ধ ছিল। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে পুরো প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পের শুরু থেকেই সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০১৮ সালে অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পটির কাজ কয়েক দফা ধীরগতির শিকার হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে নির্মাণকাজের কারণে নিরালা ও আশপাশের এলাকায় ধুলাবালি, যানজট ও জনদুর্ভোগ বেড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আজহার ইসলাম বলেন, আমরা উন্নয়নের বিরুদ্ধে না। কিন্তু আবাসিক এলাকার মাঝখানে এত বড় সড়ক ও উড়ালসেতু নির্মাণে এলাকার পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। আগে যেটা শান্ত এলাকা ছিল, এখন সেখানে ভারী যান চলাচলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে প্রতিদিন গল্লামারি মোড় হয়ে শহরে প্রবেশ করা পরিবহন চালকদের আশা, নতুন সড়ক চালু হলে দীর্ঘ যানজট থেকে মুক্তি মিলবে। পণ্যবাহী ট্রাক চালক আসাদুল বলেন, গল্লামারিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। নতুন রাস্তা চালু হলে সরাসরি বাইপাস ব্যবহার করা যাবে। এতে সময় ও জ্বালানি দুটোই বাঁচবে।

কর্মজীবী মানুষও প্রকল্পটি নিয়ে আশাবাদী। স্কুলশিক্ষক গাজী মিজানুর বলেন, প্রতিদিন যাতায়াতে অনেক সময় নষ্ট হয়। নতুন সড়কটি পুরোপুরি চালু হলে খুলনা শহর থেকে বের হওয়া অনেক সহজ হবে।

এই আশাবাদের বিপরীতে প্রকল্পটির নকশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের নেতারা। তাদের দাবি, নিরালা মোড় ও সংযোগ সড়কগুলো বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী যথেষ্ট প্রশস্ত নয়। ফলে উড়ালসেতু চালু হলেও নতুন করে যানজট তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের খুলনা চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি আসিফ আহমেদ বলেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্পে শুধু বর্তমান যানবাহনের চাপ নয়, ভবিষ্যৎ নগর সম্প্রসারণও বিবেচনায় নিতে হয়। নিরালা মোড় পুনঃনকশা না করলে কয়েক বছরের মধ্যেই সেখানে তীব্র যানজট তৈরি হতে পারে। তিনি আরও বলেন, উড়ালসেতুর নিচ দিয়ে যান চলাচলের পর্যাপ্ত সুযোগ রাখা হয়নি। এতে ভবিষ্যতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) নেতা মাহবুবুর রহমান মুন্না বলেন, খুলনার নির্মাণাধীন উড়ালসেতু নগরবাসীর দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের আশা জাগিয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরালার মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সেতু নির্মাণের কারণে নতুন যানজটও তৈরি হতে পারে। তাই উড়ালসেতুর পাশাপাশি সমন্বিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও বিকল্প সড়ক উন্নয়ন জরুরি।

এদিকে প্রকল্পের ব্যয় নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। শুরুতে ৭১৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হলেও সময় বৃদ্ধি ও নকশা সংশোধনের কারণে ভবিষ্যতে ব্যয় বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও কেডিএ বলছে, নির্ধারিত বাজেটের মধ্যেই কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খুলনার মতো দ্রুত সম্প্রসারণশীল নগরীর জন্য বিকল্প সড়ক ও বাইপাস সংযোগ অত্যন্ত জরুরি। তবে পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা থাকলে বড় অবকাঠামোও কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে ব্যর্থ হতে পারে।

সব মিলিয়ে খুলনার প্রথম উড়ালসেতু এখন উন্নয়ন ও উদ্বেগ দুইয়ের প্রতীক। একদিকে নগরবাসী অপেক্ষা করছেন যানজটমুক্ত দ্রুত যোগাযোগের জন্য, অন্যদিকে নগর পরিকল্পনাবিদরা সতর্ক করছেন ভবিষ্যৎ জটিলতার বিষয়ে। এখন দেখার বিষয়, সময়মতো প্রকল্প শেষ হওয়ার পাশাপাশি নকশাগত সীমাবদ্ধতাগুলো কাটিয়ে খুলনার এই বহুল আলোচিত উড়ালসড়ক সত্যিই নগরবাসীর স্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে কি না।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা