পিয়াল হাসান রিয়াজ, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-রাধিকা সড়ক। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর-রাধিকা সড়ক এখন এক আতঙ্কের নাম। দিনের আলো হোক কিংবা গভীর রাত, এই সড়কে বের হলেই যেন মৃত্যুর সঙ্গে শুরু হয় এক অদৃশ্য দৌড়।
২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত মাত্র ১৭ মাসে এ সড়কে ভয়াবহ সব সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৬৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। অথচ একের পর এক লাশ বাড়লেও থামছে না বেপরোয়া গতি, কমছে না অব্যবস্থাপনা, মিলছে না কার্যকর প্রতিকার।
অনুসন্ধান বলছে, নবীনগর-রাধিকা সড়ক এখন শুধুই একটি সড়ক নয়, এটি যেন ধীরে ধীরে ‘মৃত্যুফাঁদে’ রূপ নিয়েছে। কোথাও সড়কের পাশে অবৈধ বালুর স্তূপ, কোথাও দখল করে রাখা ট্রাক ও যানবাহনের অনঅনুমোদিত পার্কিং, আবার কোথাও প্রশিক্ষণহীন চালকদের বেপরোয়া গতির প্রতিযোগিতা। সব মিলিয়ে প্রতিদিনই এখানে তৈরি হচ্ছে ভয়ংকর ঝুঁকি।
সড়কের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে বালু ব্যবসার সিন্ডিকেট। অনেক সময় চলন্ত যানবাহন হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে রাত নামলেই পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে। অধিকাংশ এলাকায় পর্যাপ্ত সড়কবাতি না থাকায় অন্ধকারে বেড়ে যায় ঝুঁকি কয়েকগুণ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সড়কের কয়েকটি অংশে মাঝেমধ্যেই ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনাও ঘটে। ফলে রাতের যাত্রা অনেকের কাছেই এখন আতঙ্কের আরেক নাম।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হচ্ছে, সড়কের দুই পাশে থাকা অসংখ্য স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সামনে নেই কোনো কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নেই স্পিড ব্রেকার, নেই সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পারাপার হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহি উদ্দিন আহামেদ মহিন বলেন, “অদক্ষ ও প্রশিক্ষণবিহীন চালকদের কারণেই সড়ক দুর্ঘটনার মূল উৎস তৈরি হচ্ছে”।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “সড়কটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাভুক্ত হলেও এখানে প্রয়োজনীয় সাইনবোর্ড কিংবা স্পিড ব্রেকারের ব্যবস্থা নেই। একইসঙ্গে রং পার্কিং, বালু ব্যবসার সিন্ডিকেট এবং অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি”।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “স্পিড ব্রেকার স্থাপনের বিষয়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ রয়েছে, সেই নির্দেশনার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে নিয়মিত চেকপোস্ট ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে লাইসেন্সবিহীন চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে”।