কচুয়া (চাঁদপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬ ১৫:০৯ পিএম
গ্রেপ্তার আরমান গাজী ও মেহেদী হাসান গাজী। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
চাঁদপুরের কচুয়ায় চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্র সাকিব হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ২৪ ঘণ্টার অভিযানে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দুই আসামিকে রবিবার আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- উপজেলার সাচার ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার আরমান গাজী (১৭) ও মেহেদী হাসান গাজী (১৭)।
নিহত সাকিব হাসান উপজেলার এক নম্বর সাচার ইউনিয়নের জয়নগর (গাজীবাড়ী) এলাকার সৌদি প্রবাসী আব্দুল কাদেরের ছেলে।
রবিবার রাত ১০টার দিকে প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা হত্যার দায় স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, সাকিবকে পুকুরে গোসল করার সময় পানিতে ডুবিয়ে হত্যা করে তারা। পরে মরদেহ পানির নিচে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। রাতে মরদেহ তুলে হাত-পা কেটে বস্তাবন্দি করে ইট বেঁধে পানিতে ফেলে দেয়, যাতে ভেসে না ওঠে।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে নিজ বাড়িতে অবস্থানকালে বাইরে থেকে কেউ নাম ধরে ডাক দিলে সাকিব দ্রুত ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পেয়ে সাকিবের দাদা মোস্তাজ উদ্দিন কচুয়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। খবর পেয়ে সাকিবের বাবা সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে ছেলেকে খুঁজতে থাকেন।
পরবর্তীতে ২৪ নভেম্বর স্থানীয় মোস্তফা নামের এক ব্যক্তি তার কৃষিজমির পাশে ডোবা পরিষ্কার করার সময় মানুষের মাথার খুলি ও হাড়ের অংশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাথার খুলি ও হাড়ের সাতটি অংশ উদ্ধার করে অপমৃত্যু মামলা রুজু করে। পরে উদ্ধারকৃত আলামত সিআইডি ডিএনএ পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠায়। পরীক্ষায় সেগুলো সাকিব হাসানের বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
ডিএনএ রিপোর্ট ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর নিহতের বাবা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে গত ৭ মে কচুয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত করছেন এসআই ফ.ম শাহজাহান।
ঘটনার পর চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান, পিপিএম-এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় কচুয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হাই এবং কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আজিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম তদন্ত ও অভিযান শুরু করে এবং জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করে।