মধ্যাঞ্চলীয় অফিস
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬ ১২:৫৮ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৬ ১৩:০৬ পিএম
পাকুন্দিয়ায় কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণের কারণে পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় সরকারি ড্রেনেজ ব্যবস্থার কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
এতে উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের মধ্য কাগারচর বালুয়াকান্দা এলাকায় সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় প্রায় ৫০০ বিঘা ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
স্থানীয় বেশকিছু কৃষকের সঙ্গে কথা হলে তারা দাবি করেন, ওই জমির ফসলের বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা। কিন্তু জলাবদ্ধতার কারণে তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলেও জানান।
আরও পড়ুন: রাজশাহীতে শিক্ষিকার সঙ্গে বিএনপি নেতার মারামারির ভিডিও ভাইরাল |
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. আব্দুল খালেক আলতু মিয়া বুরুদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি।
সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকার কৃষকেরা কোমরসমান পানিতে নেমে ধান কাটার চেষ্টা করছেন।
তবে অনেক জমির ধান ইতোমধ্যে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে কৃষকেরা কার্যত অসহায় অবস্থায় পড়েছেন।
কৃষকরা জানান, সার, বীজ ও শ্রমের সব বিনিয়োগ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
কয়েক কোটি টাকার ফসল নষ্টের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, মধ্য কাগারচর বালুয়াকান্দা বাইতের বন মাঠে পানি নিষ্কাশনের জন্য একটি সরকারি কালভার্ট ছিল। কিন্তু বিএনপি নেতা আব্দুল খালেক সেই কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
এর ফলে এলাকার পানি বের হওয়ার স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে শতাধিক কৃষক পরিবারের কয়েক কোটি টাকার ফসল নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
কৃষক আফল বলেন, আগে খাল ও কালভার্ট দিয়ে পানি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করত। কিন্তু এখন সেই পথ বন্ধ হয়ে ৫০০ হেক্টরের বেশি জমি পানির নিচে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আগে বছরে তিনটি ফসল হলেও এখন জমি পানির নিচে পচে যাচ্ছে। প্রশাসন পরিদর্শন করলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
অভিযুক্ত নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তিনি বলেন, আলতু মিয়া রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।
কৃষক মোহাম্মদ আলী বলেন, তার জমি পানিতে ডুবে গেছে এবং পুকুরের মাছও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা চান।
কিশোরগঞ্জ জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ রমজান বলেন, দুই বছর ধরে এলাকায় জলাবদ্ধতা চলছে। এতে বিপুল পরিমাণ ফসল নষ্ট হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। প্রশাসনের আশ্বাস থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মো. আব্দুল খালেক আলতু মিয়া বলেন, এলাকায় অনেকেই কালভার্ট বন্ধ করে বাড়ি নির্মাণ করেছেন।
তিনি দাবি করেন, তিনি নিজস্ব জায়গায় ঘর নির্মাণ করছেন এবং পানি চলাচলের বিকল্প ব্যবস্থা করতে প্রস্তুত আছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নূর-ই-আলম বলেন, বিষয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে এবং পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তার কথাও জানান তিনি।
পাকুন্দিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুপম দাস বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণের বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভুক্তভোগী কৃষকদের দাবি, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দ্রুত কালভার্ট সচল করা না হলে পুরো এলাকা স্থায়ীভাবে অনাবাদী হয়ে পড়তে পারে।