নারায়ণগঞ্জ অফিস
প্রকাশ : ১০ মে ২০২৬ ১৫:৪৪ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৬ ১৫:৪৭ পিএম
পিবিআই নারায়ণগঞ্জের হাতে গ্রেপ্তার মূল আসামি আজিম। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে স্কুলছাত্র ইয়াছিন আরাফাত হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৯ মাস পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
তদন্তে উঠে এসেছে, পরকীয়ার সন্দেহ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৫ ও ৬ মে অভিযান চালিয়ে মূল আসামি আজিম হোসাইন, তার স্ত্রী নুসরাত জাহান মিম এবং বন্ধু ফয়সালকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ে রবিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির জেলা পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় ওষুধ কেনার কথা বলে বাসা থেকে বের হন বেইজ স্কুলের ছাত্র ইয়াছিন আরাফাত। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
দুই দিন পর ১৩ আগস্ট সিদ্ধিরগঞ্জপুল এলাকার আশরাফ আলী অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনের সামনে ডিএনডি লেক থেকে ইয়াছিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, বলেন তিনি।
এ ঘটনায় নিহতের মা আফরিনা নাসরিন সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ সময় তদন্তেও অগ্রগতি না হওয়ায় পরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতবেদন অনুযায়ী, ইয়াছিনের সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্ক নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ করতেন আজিম। এরপর একদিন মিমের মোবাইলে ইয়াছিনের বার্তা দেখে সন্দেহ আরও বাড়ে।
মিম তাকে আত্মীয় পরিচয় দিলেও বিষয়টি বিশ্বাস করেননি আজিম, উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
এরপর বন্ধু ফয়সালকে সঙ্গে নিয়ে ইয়াছিনকে হত্যার পরিকল্পনা করেন আজিম। ঘটনার দিন কৌশলে ইয়াছিনকে একটি সিএনজিতে তোলা হয় বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
পরে সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকপাড় এলাকায় নিয়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে লেকের পানিতে ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৫ মে ডেমরা এলাকা থেকে আজিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনির আখরা থেকে ফয়সাল এবং রূপগঞ্জ থেকে মিমকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
পরে আদালতে নেওয়া হলে আজিম হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। অন্যদিকে, ফয়সাল ও মিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
পিবিআই সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।