গাজীপুরে ৫ খুন
গাজীপুর প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬ ১৭:২২ পিএম
আপডেট : ০৯ মে ২০২৬ ১৯:২৯ পিএম
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় শনিবার সকালে ৩ শিশু, একজন নারী ও একজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ছবি: ভিডিও থেকে
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একসঙ্গে পাঁচ জনকে হত্যার ঘটনায় নতুন মোড়। স্বজনদের দাবি, ঘটনার দিন সকালে ‘ঘাতক’ ফোরকান সবাইকে হত্যার বিষয়টি তার ছোট ভাইকে ফোন করে জানায়।
নিহতের দুঃসম্পর্কের চাচা উজ্জ্বল বলেন, “ফোরকানের ছোট ভাই মিশকাত থাকে উত্তরা। ফোরকান সকালে মিশকাতকে ফোন দিয়ে বলে, ‘সব গুলারে মাইরা ফালাইছি, আমারে আর পাবি না’। এরপর থেকেই ফোরকানের ফোন বন্ধ। পরবর্তীতে মিশকাত তার বউ, নিহত শারমিনের ছোটবোনকে ফোন দিয়ে জানায় ফোরকান নাকি সবাইকে মেরে ফেলছে। এরপর ওই ছোট বোন শারমিনের বাবা মাকে বিষয়টি জানালে আমরা ঘটনাস্থলে আসি”।
তিনি আরও বলেন, “আমরা গাজীপুরের মাস্টার বাড়ি চাকরি করি। খবর পেয়ে আমরা কয়েকজন বাসায় এসে দরজা ধাক্কা দিয়ে নাম ধরে ডাকি৷ ভেতরে ঢুকে প্রথমেই দেখি বাচ্চাদের মেরে কাঁথা দিয়ে ঢেকে রেখেছে। পরে আমরা বিষয়টি নিশ্চিত হই আসলে সবাইকে মেরে ফেলেছে। তখনই শারমিনের বড় বোন কান্না শুরু করে। তার কান্নার শব্দ শুনেই এলাকার মানুষজন সবাই চলে আসে। এরপর আমরা থানায় গিয়ে পুলিশকে জানাই, পরে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ”।
তাদের দাবি, ফোরকান ৮-১০ দিন পর পর বাড়িতে ফিরত। জিজ্ঞাসা করা হলে বলতো গাড়ি নিয়ে যাই, বিভিন্ন কাজে বিভিন্ন জায়গায় থাকতে হয়। শারমিনকে বিভিন্ন সময় মারধর করত। গত ৬ মাস যাবৎ ফোরকান আরেকটি বিয়ে করা কথা বলে আসছিল বলেও দাবি স্বজনদের।
শ্যালকে কি কারণে মারা হতে পারে বিষয়টি জানতে চাইলে উজ্জ্বল বলেন, “শারমিনকে বিভিন্ন সময় মারধর করতো। ঠিকমতো ওষুধপত্র কিনে দিত না। ছোট ভাই হিসেবে হয়তো দুলাভাইয়ের সঙ্গে রাগারাগি করতে পারে। সেই হিসেবে প্রতিশোধ নিতেও তাকে মারতে পারে”।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা ফোরকান যেহেতু পলাতক রয়েছে, তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, “ঘটনার পর থেকে স্বামী ফোরকান যেহেতু পলাতক রয়েছেন। আমরা ধারণা করছি তিনি এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তার সঙ্গে অন্য কেউ যদি জড়িত বা সহযোগী আছে কিনা গ্রেপ্তারের পরেই জানা যাবে”।
এর আগে, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউতকোনা এলাকায় শনিবার সকালে ৩ শিশু, একজন নারী ও একজন পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ”।