কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬ ১৪:৩৪ পিএম
আপডেট : ০৯ মে ২০২৬ ১৪:৩৮ পিএম
কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ ফেরাতে তৎপর বিজিবি। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মরদেহ বর্তমানে বিএসএফের হেফাজতে রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে শুরু হয়েছে কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতা।
বিজিবির শনিবার দেওয়া প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন।
পাথারিয়াদ্বার এলাকায় চোরাচালানি মালামাল নিয়ে ফেরার সময় বিএসএফ তাদের বাধা দেয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।পরিস্থিতির একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে গুলি ছোড়ে বলে দাবি করে বিএসএফ।
বিএসএফ বিজিবিকে জানায়, গুলিতে ধজনগর গ্রামের মুরসালিন (২০) গুরুতর আহত হন।পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
অপর আহত ব্যক্তিও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান বলে জানিয়েছে বিজিবি।
তবে নিহত দ্বিতীয় ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বিজিবি জানিয়েছে, ঘটনাটি বিএসএফের ৫৯ ব্যাটালিয়নের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্প এলাকায় ঘটেছে।
ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার বিষয়টি বিএসএফ কর্তৃপক্ষই নিশ্চিত করেছে।পরে তারা নিহত হওয়ার তথ্য বিজিবিকে জানায়।
নিহতদের মরদেহ ফেরাতে ৬০ বিজিবি সুলতানপুর ব্যাটালিয়ন বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে।
এ ঘটনায় ফ্ল্যাগ মিটিং আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।পাশাপাশি বিএসএফকে কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্রও পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম বলেন, একজন নিহতের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।
অপরজনের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে এবং বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ হস্তান্তর করা হবে বলেও জানিয়েছে বিএসএফ।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, নিহত মুরসালিন একজন কলেজছাত্র ছিলেন। অন্য নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনও নিশ্চিত নয়।
ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।