কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬ ১১:৪৪ এএম
আপডেট : ০৯ মে ২০২৬ ১৭:০৮ পিএম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ধজনগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত কলেজছাত্র মুরসালিন। গ্রাফিক্স: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত একটার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন।
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নিহত কলেজছাত্রের নাম মুরসালিন। তিনি গোপীনাথপুর ইউনিয়নের মানিক্যমুরি এলাকার হেবজু মিয়ার ছেলে।
তবে নিহত অপরজনের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা যায়নি।
বিজিবির শনিবার পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, শুক্রবার রাত ১১টা ৫ মিনিটের দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারি ভারতীয় চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় চোরাচালানের উদ্দেশ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ধজনগর-পাথারিয়াদ্বার এলাকায় প্রবেশ করেন।
পরে ভারত থেকে চোরাচালানকৃত মালামাল নিয়ে ফেরার পথে বিএসএফের ৫৯ ব্যাটালিয়ানের পাথারিয়াদ্বার ক্যাম্পের টহল দল তাদের বাধা দেয়, বলেও উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিটিতে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ওই সময় বিএসএফ সদস্যদের সঙ্গে চোরাকারবারিদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে বলে দাবি করে বিএসএফ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা ছররা বন্দুক থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছোড়ে।
এতে কসবা উপজেলার ধজনগর গ্রামের মো. মুরসালিন (২০) গুরুতর আহত হন। পরে ভারতের একটি হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয় বলেও জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
এ ঘটনায় আহত অপর ব্যক্তিও চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় জানা যায়নি বলেও জানায় বিজিবি।
বিজিবি জানায়, আহত দুইজনকে ভারতের হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় কয়েকজন দাবি করেন, শুক্রবার গভীর রাতে কয়েকজন সীমান্তের কাঁটাতারের কাছে অবস্থান করছিলেন।
এ সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলিতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মুরসালিন, বলেন তারা।
তারা আরও বলেন, এ ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর এবং বিভিন্ন হাসপাতালে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ধজনগর গ্রামের রিপন পাঠান বলেন, প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন সীমান্তের কাছে গেলে বিএসএফ গুলি চালায়। এ সময় মুরসালিন গুলিবিদ্ধ হন এবং অন্যরা আহত হলেও সরে যেতে সক্ষম হন।
মুরসালিন গোপীনাথপুর আলহাজ্ব আলম ডিগ্রি কলেজের ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার্থী ছিলেন বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই ইয়াছিন।
তবে নিহত মুরসালিন ও অন্যরা কেন ওই সময় সীমান্ত এলাকায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে পরিবার কথা বলতে রাজি হয়নি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ চোরাচালানের বিষয়টির কথাও উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে প্রতিবেদকের কথা হয় চন্ডিদ্বার বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার নায়েক সুবেদার মুইনুদ্দিনের সঙ্গে।
তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, “আমরা একজন নিহত হওয়ার সংবাদ পেয়েছি। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা কাজ করছি।”
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলামও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।