গাজীপুর ও শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬ ১০:০০ এএম
আপডেট : ০৯ মে ২০২৬ ১২:৪৯ পিএম
গাজীপুরে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যারে ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয়রা। ছবি: প্রতিদিনের বাংলাদেশ
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
উপজেলার রাউতকোনা (পূর্বপাড়া) গ্রামে শনিবার ভোরে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর থেকে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া পলাতক রয়েছেন।
নিহতরা হলেন ফোরকানের স্ত্রী শারমিন (৩২), শ্যালক রসুল (২২) এবং তিন মেয়ে মিম (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ঘটনাস্থলে ভিড় করেন স্থানীয়রা।
নিহত শারমিনের ভাগিনা সাকিব জানান, চাকরি দেওয়ার কথা বলে শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোরকান তার শ্যালক রসুলকে বাড়িতে ডেকে আনেন।
রাতে খাবার শেষে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে স্ত্রী, শ্যালক ও তিন সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
ফোরকান মিয়া পেশায় প্রাইভেটকার চালক। তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে রাউতকোনা গ্রামের প্রবাসী মনির হোসেনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন বলেও জানান সাকিব।
সাকিব আরও বলেন তার নানা শাহাদাত মোল্লা হত্যার বিষয়টি ফোরকানের ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে প্রথমে জানতে পারেন। পরে ফোনে তাকে (সাকিব) জানান।
এরপর পরে শনিবার সকালে সাকিব ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের মেঝেতে রসুল, শারমিন ও তিন শিশুর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
শারমিনের মরদেহ জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখা ছিল বলেও জানান তিনি।
মৃতের বড়ভাই শাহিন বলেন, গতকাল ফোনে চাকরির প্রলোভন দিয়ে নিয়ে এসে পরিকল্পিতভাবে আমার ভাইকে হত্যা করে ও পালিয়ে গেছে।
তিনি দাবি করেন, ফোরকান বিভিন্ন সময়ে নেশা করতো, নেশা না করলে এভাবে কেউ হত্যা করতে পারে না।
স্থানীয় বাসিন্দা বাচ্চু মিয়া বলেন, ফোরকান গাড়ি চালাত। সকালে আমরা জানতে পারলাম যে সবাইকে হত্যা করা হয়েছে।
শিশু সন্তানদের তিনি কীভাবে হত্যা করতে পারলেন বলেও দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।
কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, মরদেহের পাশাপাশি ঘটনাস্থলে একটি দেশীয় খালি মদের বোতল পাওয়া গেছে। পাশাপাশি একটি কোকাকোলার বোতল পাওয়া গেছে।
সেখানে কিছুটা কোকাকোলা ছিল। আমরা কেমিক্যাল এনালাইসিস করে দেখব সেখানে ঘুমের ওষুধ বা অন্য কোন মাদকদ্রব্য মেশানো হয়েছিল কিনা, বলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে সিআইডি আসছে। ঘটনার পর থেকে ফোরকান যেহেতু পলাতক রয়েছে। আমরা ধারণা করছি তিনি এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।
তার সঙ্গে অন্য কেউ যদি জড়িত বা সহযোগী আছে কি না গ্রেপ্তারের পরেই জানা যাবে।
এ বিষয়ে গাজীপুর পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দীন জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে।